পোস্ট

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

  প্রাচীনকালে শাস্ত্রকাররা ব্রহ্মা,শিব,সরস্বতী ও নারদকে সঙ্গীতের উৎস রূপে কল্পনা করেছেন।ভৈরব রাগকে শিবের রূপ ভেবেছেন।পিলু রাগে রাধাকৃষ্ণ,সরস্বতী রূপ ললিত রাগে।শিবের ডমরু থেকে সঙ্গীত ও কাব্যের উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করা হয়।সঙ্গীতের মাধ্যমে  মানুুষ ভগবানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছে।সঙ্গীতে সুরই প্রধান।কথার অর্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ না হলেও হয়। ভারতীয় সঙ্গীত আরব,পারস্য,মিশর,গ্রীস দেশে ছড়িয়ে পড়ে।তা ছিল বেদকে অনুসরণ করে তৈরি সঙ্গীত।পরে মুসলিম সংস্কৃতির প্রভাব পড়ে।আমীর খসরু ধ্রুপদের সঙ্গে পার্সী গজল মিশিয়ে খেয়াল রচনা করেন।ভারতীয় সঙ্গীতের কল্যাণ রাগের সঙ্গে পার্সী রাগ মিশ্রিত করে ইমন রাগ রচনা করেন। মিঞা গুলাম নবী ও তাঁর স্ত্রী শোরী অনেক টপ্পা গান তৈরি করেন।সনদপিয়া ও কদরপিয়া ছিলেন ঠুংরি গানের স্রষ্টা।ভারতীয় শিল্পের উদ্দেশ্য হল সমাজের কল্যাণ সাধন।বিভিন্ন ধরনের গানের মাধ্যমে ভগবানের বিভিন্ন রূপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।তাঁর বিভিন্ন রূপের বন্দনা করা হয়েছে।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

ভারতে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত রাগপ্রধান।প্রত্যেক রাগের পৃথক স্বরূপ আছে।তাদের পত্নীরাগ আছে,যারা রাগিণী নামে পরিচিত।পুত্র-পুত্রবধূ,কন্যা,জামাতা রাগও আছে বলে ভাবা হয়েছে।পন্ডিত গণ রাগের ৯টি ভাবের উল্লেখ করেছেন-রতি,হাস,শোক,ক্রোধ,উৎসাহ,ভয়,ঘৃণা,বিস্ময়,নির্বেদ বা বৈরাগ্য।৯টি রসের নামকরণ করা হয়েছে ঐ ভাবগুলির উপর ভিত্তি করে-আদি বা শৃঙ্গার,হাস্য, করুণ,রৌদ্র,বীর,ভয়ানক,বীভৎস,অদ্ভূত,শান্ত।এছাড়া আরও কিছু ভাব যা সঞ্চারী ভাব নামে পরিচিত- অসূয়া , অপস্মার ,আলস্য,আবেশ,উদাসীনতা,উন্মাদ,ঔৎসুক্য,গর্ব,গ্লানি,চপলতা,চিন্তা,জড়তা,ত্রাস,নিদ্রা,দীনতা,বিষাদ,ব্যাধি,লজ্জা,মতি,মোহ,শঙ্কা,স্মৃতি।এগুলি মূল ভাবের সঙ্গে মিশে প্রকাশিত হয়। এখন প্রশ্ন হল যে একটি রাগের দ্বারা কি সব রস প্রকাশিত হয়?বিভিন্ন গায়কের দ্বারা বিভিন্ন সময় পরিবেশিত হলেও কি শ্রোতার মনে এক প্রভাব ফেলে? স্পষ্ট কোথাও বলা নেই যে রাগ অনুযায়ী সময় আলাদা আলাদা হওয়া উচিৎ।মনোবিজ্ঞান ভিত্তিক হওয়া উচিৎ।পন্ডিত গায়করা সময় অনুসরণ না করেও রাগ ভালোভাবেই পরিবেশন করতে পারেন।তবে,এটা বেশ ভালো অনুভব করা যায় যে মল্লার রাগ বর্ষা ঋতুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শৃঙ্গার রস প্রধান রাগ-ছায়ানট,বা

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

গমক- মাধুর্য রেখে গাম্ভীর্যের সঙ্গে কোনো স্বরকে বিশেষভাবে আন্দো লিত  করার নাম গমক।প্রাচীনকালে বাইশ প্রকার গমকের প্রচলন ছিল।কর্ণাটক সঙ্গীত পদ্ধতিতে এগুলির কিছু প্রচলিত আছে।তবে হিন্দুস্তান পদ্ধতিতে পরিবর্তন হয়েছে।এই পদ্ধতিতে গমক প্রকাশ করা হয় বুকে ধাক্কা দেবার মত(গায়নশৈলীতে)। গমককে  এক্ষেত্রে মুরকি ,খটকা, জমজমা  নামে অভিহিত করা হয়। টপ্পায়  ও সেতারে জমজমা  প্রয়োগ হয়। কম্পিত গমক-কণ্ঠে ও বাদ্যযন্ত্রে এই গমকের প্রয়োগ হয়।বাদ্যযন্ত্রে এক আঘাতে দুটি স্বর প্রকাশ করে এই গমকের প্রয়োগ হয়। আন্দোলিত গমক-কোনো স্বরকে তার আগের বা পরের স্বরের সঙ্গে স্পর্শ করে আন্দোলিত করলে এই গমক তৈরি হয়। আহত গমক-মূল স্বরকে প্রকাশ করার সময় ঐ স্বরের আগের বা পরের স্বরের সাহায্যে আঘাত করে মূল স্বর বাজালে এই গমক হয়। উল্লাসিত গমক-প্রতি স্বর অন্যকে স্পর্শ করে ওঠে বা নীচে নামে। তিরিপ গমক-দ্রুত লয়ে এক চতুর্থাংশ স্বরের প্রয়োগ হয়। ত্রিভিন্ন গমক-এক বা একাধিক স্বর খুব দ্রুত বেগে  তিনটি সপ্তকে প্রয়োগ হয়। প্লাবিত গমক-মীড়কে ঐ গমক নামে আগে অভিহিত করা হত।অর্থাৎ এক স্বর থেকে আর একটিতে গড়িয়ে যাওয়া। বোলিং গমক-এতে স্বরকে বক্রভাবে ব্যবহার করা

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

খান্ডারবাণী-কথিত আছে মুঘল সম্রাট আকবরের দরবারে বীণকার নওবদ খাঁ এই বাণীর প্রচলন করেন।প্রধানতঃ বীণকার ও ধ্রুপদীয়াগণ এর পরিবেশন করতেন।নওবদ খাঁ ছিলেন তানসেনের জামাতা।তাঁর আগে নাম ছিল সমোখন সিংহ।তাঁর গ্রামের নাম ছিল খাণ্ডার।তাই তাঁর গায়নরীতির নাম হয় খান্ডারবাণী।আল্লাদিয়া খাঁ,সদারঙ্গ,ছোট রামদাস ছিলেন এই রীতির গায়ক। ডাগুরবাণী-কথিত আছে দিল্লির কাছের ডাগুর গ্রামের অধিবাসী হরিদাস এর প্রবর্তক।তিনি তানসেনের সমসাময়িক ছিলেন।এই বাণীর বৈশিষ্ট্য হল সরলতা।এর গায়করা হলেন জালালুদ্দিন খাঁ,আলাবন্দে খাঁ। নওহরবাণী-সুজন দাস বা সুজান খাঁ(পরবর্তীতে) এর প্রবর্তক।মতান্তরে নওহর গ্রামের গুণী শ্রীচন্দ এর প্রবর্তক।দ্রুত লয়ের এই গায়নরীতিতে নাহার অর্থাৎ সিংহের গতি অনুসৃত হয় বলে এমন নামকরণ।মতান্তরে নবরসের সংমিশ্রণ ঘটে বলে এমন নাম।এর গায়করা হলেন কেরামত আলী খাঁ,কল্লন খাঁ,ওস্তাদ বিলায়েৎ হুসেন খাঁ।  গওহরবাণী-তানসেন এর প্রবর্তক।কারো মতে নায়ক কুম্ভন দাসের বংশধর এর প্রবর্তক।উর্দূ ভাষায় রচিত "মাদনূল মওসিকি" গ্রন্থের লেখক হাকিম মোহাম্মদ-এর মতে তানসেন প্রথম জীবনে গৌড়ীয় ব্রাহ্মণ হওয়ার জন্য "গৌড়ী" শব্দ থেকে গওহর 

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

ভারতীয় সঙ্গীতের উত্তরমধ্যকালে ধ্রুপদ গায়কগণ প্রধানতঃ চারটি পদ্ধতিতে ধ্রুপদ পরিবেশন করতেন,একে বাণী বলে।এগুলি ডাগুরবাণী,খান্ডারবাণী,গওহর বা গোবরহার বাণী নওহর বাণী নামে পরিচিত।প্রাচীনকালে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাঁচটি গায়নশৈলীর উল্লেখ পাওয়া যায়  শুদ্ধা-সরল,অনাড়ম্বর,সুললিত স্বরের গীত।ডাগুরবাণী পদ্ধতির সঙ্গে এর মিল আছে।এই রীতিতে গমক,কণ,মীড় প্রয়োগ হতনা। ভিন্না-সূক্ষ্ম,গমকযুক্ত,বক্র গীত।এর সঙ্গে গওহর বাণীর মিল আছে। গৌড়ী-গম্ভীর প্রকৃতির গীত।এর সঙ্গে খান্ডারবাণীর মিল আছে। সাধারণী-এই রীতিতে মন্দ্র সপ্তকে কম্পিত  ও দ্রুত সুরবিন্যাস করে ই বা উ কার যোগে গাওয়া হয়। বেসরা-এতে দ্রুত লয়ে আরোহ-অবরোহ করা হয়।এর সঙ্গে নওহর বাণীর মিল আছে।স্বরের বক্রগতি এতে দেখা যায়।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

কৃষ্ণানন্দ ব্যাস ধ্রুপদ,খেয়ালের গ্রন্থ সংকলন করেন, "সঙ্গীতের কল্লদ্রুম" ।এছাড়া রবীন্দ্রসঙ্গীত,নজরুলগীতি,দ্বিজেন্দ্রগীতি,অতুলপ্রসাদী,রজনীকান্ত  সেনের গান উল্লেখযোগ্য।রাগ-রাগিণী বিষয়ক আলোচনা আছে কৃষ্ণধন ব্যানার্জ্জী-র "গীতসূত্রসার" ,স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ রচিত "রাগ ও রূপ" গ্রন্থ।গোপেশ্বর ব্যানার্জ্জী রচিত "সঙ্গীত চন্দ্রিকা" ,পি সাম্বমূর্তি-র "South Indian Music", স্যার সুরেন্দ্রমোহন ঠাকুর রচিত "Universal History of Music"  উল্লেখযোগ্য। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পন্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখন্ডে ও পন্ডিত বিষ্ণুদিগম্বর পালুস্কর বিশেষ উল্লেখযোগ্য।প্রথম জন সঙ্গীত শাস্ত্র বিষয়ে,দ্বিতীয় জন ক্রিয়াত্মক(Practical)বিষয়ে বিশেষ উন্নতি সাধন করেন।পালুস্কর রচিত গ্রন্থ হল সঙ্গীত বালপ্রকাশ,সঙ্গীত বালবোধ। ভাতখন্ডে রচিত গ্রন্থ হল হিন্দুস্তানী সঙ্গীত পদ্ধতি,ক্রমিক পুস্তক মালিকা,ভাতখন্ডে সঙ্গীতশাস্ত্র,অভিনব রাগমঞ্জরী,স্বরমালিকা,লক্ষ্যসঙ্গীত।আধুনিককালের উল্লেখযোগ্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পীরা হলেন ওস্তাদ আব্দুল করিম খাঁ, ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁ,ওস্তাদ আমীর খাঁ,ওস্তাদ বড়ে

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

আধুনিককাল- খ্রীষ্টীয় অষ্টাদশ শতকের পর থেকে শুরু আধুনিককাল।অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ঊনবিংশ শতকের শেষ অবধি একটা অংশ এবং বিংশ শতকের শুরু থেকে আজ অবধি পরের অংশ।এ সময় ব্রিটিশদের শাসনাধীনে ভারতে সঙ্গীতের প্রসার ব্যহত হয়।সঙ্গীতজ্ঞরা নিজ নিজ পরিবারের মধ্যে সঙ্গীতচর্চা করতেন।তার বাইরে তাঁরা সঙ্গীত শেখাতেননা।ফলতঃ সঙ্গীত শুধু নর্তকী,বাইজিদের মধ্যে সীমিত ছিল বাইরের পরিবেশে।তাই সঙ্গীতচর্চা সে সময় ঘৃণার বিষয়ে পরিণত হয়।এ যুগে জয়পুরের প্রতাপসিংহ দেব "সঙ্গীতসার" নামে গ্রন্থ রচনা করেন ও বিলাবলকে  শুদ্ধ ঠাট বলে গণ্য করেন। এ যুগে বাংলাদেশের হালিশহর নিবাসী সাধক রামপ্রসাদ তাঁর আরাধ্য দেবী কালী ঠাকুরের ভক্তিগীতি রচনা করেন।তৎকালীন কলিকাতায় নগরবাসী,চাকুরিজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে কবিগান,পাঁচালি,যাত্রা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।নিধুবাবুর টপ্পা এ সময় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের বাকুঁড়ার বিষ্ণুপুরের রাজা দ্বিতীয় রঘুনাথ সিংহ(১৭৫২-১৭৮৪)দিল্লি থেকে সেনী  ঘরানার গায়ক বাহাদুর খাঁ কে আমন্ত্রণ জানান।এ থেকে বিষ্ণুপুর ঘরানার উৎপত্তি হয়।এ ঘরানা থেকে প্রসিদ্ধ গায়ক রা হলেন যদু ভট্ট,ক্ষেত্রমোহন গোস্বামী,গদাধর চক্রবর্তী।  

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

১৬১০ সালে দক্ষিণ ভারতের তেলেগু ব্রাহ্মণ পন্ডিত সোমনাথ "রাগবিরোধ" গ্রন্থে উত্তর-দক্ষিণ ভারতীয় সঙ্গীতের সমন্বয় ঘটান।মেল ও ঠাট শব্দের উদ্ভাবন করেন।১৬২৭-১৬৫৮ সালে সম্রাট শাহজাহানের দরবারে ছিলেন যথাক্রমে তানসেনের পুত্র ও পুত্র বিলাস খাঁ ও লাল খাঁ।১৬৫০ সালে  পন্ডিত অহোবল রচিত "সঙ্গীত পারিজাত" গ্রন্থে প্রথম বীণার তারের উপর বারোটি স্বর স্থাপনা হয়।অহোবল বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বীণার তারের দৈর্ঘ্য ও আন্দোলনের সাহায্যে নতুন স্বর স্থাপনা করেন। ১৬৫৮-১৭০৭ সালে সম্রাট ঔরঙ্গজেব সঙ্গীতের প্রতি বিরূপ থাকলেও সঙ্গীত চর্চা বন্ধ হয়নি এ সময়।১৬৬০ সালে দক্ষিণ ভারতের পন্ডিত গোবিন্দ দীক্ষিতের পুত্র পন্ডিত ব্যঙ্কটমখী "চতুর্দণ্ডী প্রকাশিকা" গ্রন্থ রচনা করেন।তাঁর মতে ৭২ টি ঠাট ও একটি ঠাট থেকে ৪৮৪ টি রাগ তৈরি হতে পারে। মহম্মদ শাহরঙ্গীলে ছিলেন একজন সঙ্গীতেপ্রেমীক শাসক।তাঁর দরবারে ছিলেন দুজন প্রসিদ্ধ গায়ক সদারঙ্গ ও অদারঙ্গ।তাঁদের রচিত খেয়াল বহুল প্রচলিত। অষ্টাদশ শতকে দক্ষিণ ভারতের সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করেন ত্যাগরাজ,শ্যামশাস্ত্রী,মুত্তুস্বামী দীক্ষিত।তানসেনের সঙ্গে তুলনীয় ত্যাগরাজ।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

গোয়ালিয়রের রাজা মানসিংহ ১৪৮৬-১৫১৮ খ্রিঃ অবধি রাজত্ব করেন।এ সময় গোয়ালিয়র ঘরানা প্রবর্তিত হয়।তিনি বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞদের সাহায্যে  "মানকুতূহল" নামে গ্রন্থ রচনা করেন।এ সময় ভক্তি আন্দোলনের প্লাবন বয়ে যায়। উত্তর ভারত প্লাবিত হয় কবীর,মীরাবাঈ,শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর গানে।ভজন,কীর্তনের প্রসার বেশি ঘটে।কীর্তনের প্রসার ঘটে বেশি বাংলা,বিহার,আসাম ও উড়িষ্যায়।চৈতন্যদেব,মীরাবাঈ যথাক্রমে কৃষ্ণভক্তি রসাত্মক  কীর্তন ও ভজনের প্রচার করেন। ১৫৫৬-১৬০৫ সালে মুঘল সম্রাট আকবরের সভায় সঙ্গীত সম্রাট তানসেন,নায়ক বক্সী,তানতরঙ্গ গোপাল প্রমুখ ৩৬ জন সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন।তানসেেনের নামানুসারে তাঁর বংশের গায়ক ও শিষ্যরা "সেনী ঘরানা" র নামে পরিচিত হন।তানসেন "মিঞা কি মল্লার" "মিঞা কি সারং" "দরবারী কানাড়া" প্রভৃতি রাগ তৈরি করেন।আকবরের নবরত্ন সভার এক রত্ন ছিলেন তানসেন। ১৫৮৪ সালে তুলসীদাস "রামচরিতমানস মানস" রচনা করেন।এছাড়া ছিলেন কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী,স্বামী হরিদাস গোস্বামী।ঠাকুর নরোত্তম দাস ক্লাসিকাল কীর্তনের প্রবর্তন করেন।একে রস বা লীলা কীর্তন বলে।লীলাকীর্তন অবলম্বনে গরাণহাটি

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

দক্ষিণ ভারতের দেবগিরির(দৌলতাবাদ)রাজসভার কাশ্মীরী ব্রাহ্মণ শার্ঙ্গদেব ১২৩১ খ্রিস্টাব্দ "সঙ্গীত রত্নাকর" গ্রন্থ রচনা করেন।এটি উত্তর ও দক্ষিণ ভারতীয় সঙ্গীতের আকর গ্রন্থ বলে মানা হয়। সুলতানি আমলে আলাউদ্দিন খিলজির সময় (১২৯৬-১৩১৬)প্রসিদ্ধ সঙ্গীতজ্ঞ আমীর খুসরো আবির্ভূত হন।অনুমান করা হয় যে তিনি সেতার,তবলা;সাজগিরি,সরপরদা,জিলক প্রভৃতি রাগ;গানের ধরণ হিসাবে কাওয়ালী,তারানা;আড়াচৌতাল,সুরফাঁকতাল,ঝুমরা ইত্যাদি তাল সৃষ্টি করেন।তিনি "মোকাম" পরিভাষা প্রবর্তন করেন ভারতীয় সঙ্গীতে।ফার্সি সঙ্গীতে ঠাটের পরিবর্তে মোকামে রাগগুলিকে ভাগ করেন। উত্তরমধ্যকালের আর একটি উল্লেখযোগ্য  গ্রন্থ লোচন কৃত "রাজতরঙ্গিনী" ।ইনি রাগকে ১২টি হাটে ভাগ করেন।তাঁর মতে শুদ্ধ ঠাট হল কাফী।পঞ্চদশ শতাব্দীতে জৌনপুরের সুলতান হুসেন শাহ শর্কী খেয়ালের নতুন শৈলী প্রবর্তন করেন ও নতুন রাগ তৈরি করেন।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

সঙ্গীত মকরন্দ-নারদ এই গ্রন্থের রচয়িতা।এর রচনাকাল সম্বন্ধে মতানৈক্য আছে।অনেকের মতে এটি নবম শতাব্দীতে রচিত।রাগের স্ত্রী-পুরুষ-ক্লীব লিঙ্গের ভেদাভেদ প্রথম এখানে করা হয়।একে তাই রাগ-রাগিণী পদ্ধতির আকর বলা হয়।আনুমানিক দশম-একাদশ শতকে বাংলায় বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত দোঁহাগুলিকে বলে চর্যাপদ।এগুলি গাওয়া হত বলে এগুলিকে চর্যাগীত বলা হত। গীতগোবিন্দ-দ্বাদশ শতকে বাংলার অধিপতি লক্ষণ সেনের সভা কবি ও সঙ্গীতজ্ঞ    জয়দেব রচনা করেন এই গ্রন্থ।এতে প্রবন্ধগীত সংস্কৃত ভাষায় লিপিবদ্ধ আছে। উত্তরমধ্যকাল- এর সময় ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরু থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী অবধি।একালে উত্তর ভারতীয় ও ফার্সি সঙ্গীতের সংমিশ্রণ ঘটে,যেহেতু,একালে মুসলমান শাসন উত্তর ভারতে প্রতিষ্ঠিত ছিল। এ সময়কে সঙ্গীতের বিকাশকাল বলে।মুসলিম শাসকরা সঙ্গীত কুশলীদের নিজ দরবারে আশ্রয় দিতেন।এ সময় ই ভারতীয় সঙ্গীত উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত হয়।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

বায়ুপুরাণের ৮৬-৮৭ অধ্যায়ে সঙ্গীতের স্থান,বর্ণ,অলঙ্কার, মন্দ্র,মধ্য,তার অনুযায়ী স্বর ও কালের উল্লিখিত আছে।   মার্কন্ডেয় পুরাণের ২৩ অধ্যায়ে সাত স্বর, গ্রাম,মূর্চ্ছনা,ঊনপঞ্চাশটি তান,লয় ইত্যাদির উল্লিখিত আছে। বৃহদ্দেশী গ্রন্থে প্রথম 'রাগ' শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়। এতে গ্রাম ও মূর্চ্ছনার বিস্তৃত আলোচনা  আছে।এটি দেশী রাগের সঙ্কলন গ্রন্থ।  মধ্যকাল- এই সময়কে দুভাগে ভাগ করা যায়,পূর্বমধ্যকাল ও উত্তরমধ্যকাল।মার্গসঙ্গীত  সপ্তম শতাব্দীর মধ্যে লুপ্ত হয়।এরপর দেশী রাগের গ্রহ,অংশ,গ্যাস,উপন্যাস,অল্পত্ব,বহুত্ববাদী,ষাড়বত্ব,ঔড়বত্ব,মন্দ্র,মধ্য,তার ইত্যাদি লক্ষণগুলিকে যুক্ত করা হয়।এভাবে দেশী সঙ্গীত কুলীন হয়ে ওঠে।দেশী সঙ্গীতের অন্য ধারা লোকসঙ্গীত বা গ্রাম্যসঙ্গীত। পূর্বমধ্যকাল-এর সময় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত।জয়দেব-এর "গীতগোবিন্দ"  ও শার্ঙ্গদেব-এর " সঙ্গীত রত্নাকর" গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে এখন যেমন রাগ ও আলাপ গাওয়া হয় তেমন তখন প্রবন্ধ গাওয়া হত।খ্রিস্টীয় সপ্তম-অষ্টম শতকে দক্ষিণ ভারতে ভক্তি আন্দোলন হয়।এ সময় বিষ্ণু ও শিবের মহিমা প্রচার হত গানের মাধ্যমে।ত্রিবাঙ্কুরে(প্রাচীন চের র

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

খ্রীষ্টপূর্ব শতাব্দীতে  ব্রহ্মা ভরত নামে এক সঙ্গীতশাস্ত্রীর রচনা থেকে,খ্রীষ্টীয় শতাব্দীর নাট্যশাস্ত্রকার ঋষি ভরত   উপাদান সংগ্রহ করে নিজের নাট্যশাস্ত্র রচনা করেন।এই ঋষি ভরত খ্রীষ্টীয় দ্বিতীয়-পঞ্চম শতাব্দীর মধ্যে আবির্ভূত হন বলে মনে করা হয়।তাঁর বইতে নাটক ছাড়াও সঙ্গীত সম্বন্ধেও আলোচনা আছে। গুপ্ত  সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের মুদ্রায় তাঁর বীণাবাদনরত মূর্তি দেখা যায়।এ সময় যে সঙ্গীতচর্চা হত তা বোঝা যায়।এ যুগে ভারতীয় সঙ্গীতে শক্ জাতির প্রভাব পড়ে।শার্ঙ্গদেব তুরস্কতোড়ী,তুরস্কগৌড়,শক্ ইত্যাদি রাগের উল্লেখ করেছেন।এ যুগের কবি কালিদাস তাঁর "কুমারসম্ভব" কাব্যে কৈশিক রাগ,গীতমঙ্গল মঙ্গল প্রবন্ধ গীতির উল্লেখ করেছেন। "বিক্রমোর্বশী"  নাটকে ককুভ রাগ,জাম্ভালিকা,চর্চরী,দ্বিপদিকা প্রবন্ধগীতির উল্লেখ করেছেন। খ্রীষ্টীয় প্রথম বা দ্বিতীয় শতকে তামিল গ্রন্থ "পুরনানুরু" ও "পত্তু পত্তু" গ্রন্থে যুদ্ধের ঢাক,বিচারের ঢাক,যজ্ঞের ঢাকের উল্লেখ আছে। "তিবাকরম"( জৈন কোষগ্রন্থ ),"পারিপাডল"( তামিল গ্রন্থ )  গ্রন্থেগুলিতে যথাক্রমে আছে প্রাচীন দ্রাবিড় সঙ্গীতের পরিচয় এবং সাত স্

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

সন্দিগ্ধকাল : এই কালের সময় খ্রীষ্টপূর্ব দশম শতাব্দী থেকে খ্রীষ্টীয় প্রথম শতাব্দী পর্যন্ত।এই সময় থেকে সঙ্গীত সম্বন্ধে বিস্তারিত জানার কোনো সুযোগ পাওয়া যায় না বলে একে সন্দিগ্ধকাল বলে।মনে করা হয় যে এ কালেই সাত স্বর ষড়জ থেকে নিষাদ পর্যন্ত নামকরণ হয়। রামায়ণ মহাভারতের কালকে গান্ধর্ব গানের স্বর্ণযুগ বলা হয়।বৈদিক পরবর্তী বৌদ্ধ যুগে ভারতে সঙ্গীতচর্চা ছিল।কৌটিল্যের "অর্থশাস্ত্র"  থেকে জানা যায় যে মৌর্যযুগেও সঙ্গীতচর্চা হত।বাৎসায়ন সঙ্গীতকে চৌষট্টি কলার প্রথমে স্থান দিয়েছেন। ভরতের কাল : এর সময় খ্রীষ্টীয় প্রথম শতাব্দী থেকে অষ্টম শতাব্দী অবধি।এ কালে গ্রাম,শ্রুতি,জাতি,মূর্চ্ছনা,স্বরের বিবরণ পাওয়া যায়।এ কাল সম্বন্ধে জানা যায় "ভরত নাট্যশাস্ত্র" ও  "নারদীয় শিক্ষা" থেকে।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাস

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

আবির্ভাব-তিরোভাব : একটি রাগের কিছু স্বরসমষ্টি অন্য রাগে পাওয়া যায়।যথা-নি (খাদের)রে (কোমল)গ  ম (কড়ি)রে (কোমল)গ পুরিয়া ও পুরিয়াধানেশ্রী উভয়তেই আছে।এক্ষেত্রে বোঝা যায় না যে কোন রাগ গাওয়া হচ্ছে।কিন্তু গ ম (কড়ি)ধ  গ ম (কড়ি)গ যোগ হলে পুরিয়া স্পষ্ট প্রকাশ পায়।ঐ স্বরগুচ্ছ না প্রয়োগে পুরিয়াধানেশ্রী রাগের তিরোভাব এবং যোগে পুরিয়া রাগের আবির্ভাব।সমপ্রকৃতির রাগে এই প্রক্রিয়া ঘটে। প্রাচীনকালে সঙ্গীত শাস্ত্রে 'রাগ' শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায় না।মতঙ্গ ঋষির "বৃহদ্দেশী" গ্রন্থে প্রথম রাগের উল্লেখ পাওয়া যায়।আগে রাগ গাওয়া হতনা,জাতি গাওয়া হত।ভরতের নাট্যশাস্ত্রে সাতটি শুদ্ধ জাতি ও এগারোটি বিকৃত জাতির উল্লেখ আছে। সাতটি জাতি-ষাড়জী,আর্ষভী,গান্ধারী,মধ্যমা,পঞ্চমী,ধৈবতী,নৈষাদী।প্রথম চারটি ষড়জ গ্রাম জাত,বাকী তিনটি মধ্যমগ্রাম জাত।ষাড়জী থেকে পনেরোটি বিকৃত জাতি,বাকীগুলির প্রত্যেকটি থেকে তেইশটি করে শুদ্ধ বিকৃত জাতি উৎপন্ন হয়।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

রাগলক্ষণ- ভরতের নাট্যশাস্ত্রে দশটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ আছে, এর মধ্যে গ্রহ,অংশ,ন্যাস স্বর নিয়ে উল্লেখ আছে যা আগে পোস্ট করেছি,তাই পুনরাবৃত্তি করলাম না,বাকিগুলি নীচে দৃশ্য : অপন্যাস স্বর-রাগে যে স্বরগুলির উপর গায়ক বা বাদক কিছুসময় থামতে পারে।ন্যাস স্বরই আগেকার অপন্যাস স্বর। সংন্যাস স্বর-যে স্বরের উপর স্থায়ীর শেষ লাইন শেষ হয়। বিন্যাস স্বর-যে স্বরের উপর গানের চারটি ভাগের প্রথম লাইন শেষ হয়। বহুত্ব স্বর-কোনো স্বর বারবার ব্যবহার হলে তাকে বহুত্ব স্বর বলে।এটি দুই ভাগে বিভক্ত : যে স্বর আরোহ-অবরোহে বর্জন করা যায়না আবার ন্যাস করাও যায়না।বাদী-সমবাদী ছাড়া অনুবাদী স্বর বারবার প্রয়োগ হতে পারে।একে অলঙ্ঘনমূলক বহুত্ব বলে।যথা-ইমন রাগে 'ম'-র ব্যবহার।একে কখনই লঙ্ঘন করা যায়না,তা না হলে অন্য রাগের প্রভাব দেখা যেতে পারে।কিন্তু এই স্বরে এই রাগে ন্যাস ও করা যায়না। যে রাগে যে স্বর পুনঃপুনঃ প্রয়োগ হয়,তা অভ্যাসমূলক বহুত্ব স্বর।বাদী-সমবাদীকে এই স্বর আখ্যা দেওয়া হয়।যথা-বাগেশ্রী রাগে 'ধ'। অল্পত্ব-যে স্বর রাগে কম ব্যবহার হয়।আলাপ,বিস্তার করার সময় এটির প্রয়োগ বোঝা যায়।এই স্বর আরোহ-অবরোহে লঙ্ঘিত হয়।আশাবরী রাগ

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

পরমেল প্রবেশক রাগ- মেল শব্দের অর্থ ঠাট।পরমেল হল পরবর্তী মেল বা ঠাট।অর্থাৎ পরমেল প্রবেশক রাগে আগের ও পরের ঠাটের,উভয়েরই  স্বর বজায় রাখা হয়। প্রাচীন ভারতে আর্য ঋষিগণ সাতটি স্বরের সঙ্গীতে প্রয়োগ রীতি নির্দিষ্ট করেন এবং সঙ্গীত পরিবেশনের রীতি,তাল,ছন্দ,লয় নির্ধারণ,সঙ্গীত রচনার রীতিও নির্দিষ্ট করেন।এক্ষেত্রে ভরত,মতঙ্গ,দত্তিল প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।এই রীতি অনুসরণ করেই ধ্রুপদ,ঠুংরী,খেয়াল গাওয়া হয়।একেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বলে। প্রাচীনকালে দুরকম গীত প্রচলিত ছিল :নিবদ্ধ গান বা তালবদ্ধ গান ও অনিবদ্ধ গান বা তালহীন গান। নিবদ্ধ গান তালের সঙ্গে গাওয়া হত।ধ্রুপদ,ধামার,খেয়াল,তারানা,টপ্পা ইত্যাদি নিবদ্ধ গান।নিবদ্ধ গানের পাঁচটি ভাগ ছিল-উদগ্রাহ,মেলাপক,ধ্রুব,অন্তরা,আভোগ।এগুলি এখনকার স্থায়ী,অন্তরা,সঞ্চারী,আভোগের পুরানো রূপ। অনিবদ্ধ গানের চার প্রকার : রাগালাপ-যে আলাপ দ্বারা রাগের দশ লক্ষণ অর্থাৎ গ্রহ,অংশ,ন্যাস,মন্দ্র,তার,অপন্যাস,অল্পত্ব,বহুত্ব,ষাড়বত্ব,ঔড়বত্ব প্রকাশ পায়। রূপকালাপ-এতে শুধু সুর থাকে,ভাষা ব্যবহার হয়না।একটি বিষয় কে অন্য একটি বিষয় হিসাবে বর্ণনা করলে তাকে রূপক বলে। আলপ্তি গান-এটি এক ধরনের আলাপ,যাতে রাগের সব ব

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

শুদ্ধ তান-   রাগের স্বরসমূহ দ্বারা যে তান সৃষ্টি হয় তা শুদ্ধ তান। বোল তান- গানের বাণী ও তাল-ছন্দ সহযোগে যে তান হয় তা বোল তান। গমক তান- গমকের সাহায্যে যে তান পরিবেশিত হয়। বক্র তান- যে তানের গতিতে আরোহ-অবরোহ সরলভাবে দেখা যায়  না,বক্রভাবে দেখা যায়। সপাট তান- যে তান মন্দ্র সপ্তক থেকে দ্রুত তার সপ্তকে পৌঁছায় এবং দ্রুত ফিরে আসে। স্বর ও সময় অনুযায়ী  হিন্দুস্থানি সঙ্গীতে রাগকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে : সন্ধিপ্রকাশ রাগ-এটি দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণে গাওয়া হয়।এই রাগগুলির 'রে','ধ' কোমল হয়।সময় সকাল-সন্ধ্যা চারটে থেকে সাতটা। শুদ্ধ রাগ-এই রাগ সন্ধিপ্রকাশ রাগের পরে গাওয়া হয়।এতে 'রে','ধ' শুদ্ধ ব্যবহৃত হয়।সময় সকাল-সন্ধ্যা সাতটা থেকে দশটা বা বারোটা।এই রাগে 'গ' ও শুদ্ধ ব্যবহৃত হয়।যথা-বেহাগ,ভূপালী,ইমন ইত্যাদি। এর পরের রাগে কোমল 'গ','নি' ব্যবহৃত হয়।সময় সকাল-সন্ধ্যা দশটা বা বারোটা থেকে চারটে অবধি।এই রাগে কোমল স্বর লাগবেই।যথা-ভীমপলাশী,জৌনপুরী ইত্যাদি। আলাপ- এই শব্দের অর্থ সঙ্গীত শাস্ত্রে,রাগরূপ বিস্তার।রাগ গাওয়ার আগে তোম,আ,নেতে প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করে রাগের

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

কণ বা স্পর্শ স্বর- কণ শব্দের অর্থ স্পর্শ করা।কোনো স্বর উচ্চারণকালে আগের বা পরের স্বরকে অল্প স্পর্শ করে তবে তাকে স্পর্শ স্বর বলে।মূল স্বরের মাথায় একেবারে উপরে বা কোণ করে স্পর্শ স্বর লেখা হয়। মীড়- এক স্বর থেকে অপর স্বরে গড়িয়ে যাওয়া হল মীড়।এই বিষয়টিকে স্বরলিপিতে অর্ধবৃত্তাকার চিহ্ন বা ফার্স্ট ব্র্যাকেটের মত চিহ্ন দ্বারা বোঝানো হয়।ভাতখন্ডে স্বরলিপি পদ্ধতিতে অর্থাৎ হিন্দুস্থানী সঙ্গীত  পদ্ধতিতে স্বরের উপরে উল্টো নৌকার মত করে মীড় চিহ্ন বসে।আকারমাত্রিক পদ্ধতিতে স্বরের নীচে সোজা নৌকার মত করে মীড় বসে। সন্ধিপ্রকাশ রাগ- সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় যে যে রাগ গাওয়ার নিয়ম আছে তাদের সন্ধিপ্রকাশ রাগ বলে।প্রাতঃকালীন সন্ধিপ্রকাশ রাগ-ভৈরব,কালিংগড়া ইত্যাদি এবং সায়ংকালীন সন্ধিপ্রকাশ রাগ-পূর্বী,মারবা ইত্যাদি। গ্রাম- প্রাচীনকালে বাইশটি শ্রুতির ভিত্তিতে সাতটি শুদ্ধ স্বরকে স্থাপনা করা হলে,ঐ স্বরসমষ্টিকে গ্রাম বলে।অর্থাৎ সাতটি স্বরের সমাহার।সামবেদ থেকে স্বরের ও স্বর থেকে গ্রামের উৎপত্তি।তবে গ্রামের সংখ্যা নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে। মূর্চ্ছনা- সাতটি স্বরের আরোহ অবরোহের ক্রম হল মূর্চ্ছনা।শুদ্ধ ও বিকৃত মিলিয়ে

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

গ্রহ স্বর - যে স্বর থেকে রাগ গাওয়া শুরু হয় তা গ্রহ স্বর। অংশ স্বর- প্রাচীনকালে মনে করা হত,যে স্বর রাগে বেশি ব্যবহৃত হয় এবং অন্য সব স্বর যে স্বরের অধীন তাই অংশ স্বর। ন্যাস স্বর- যে স্বরে এসে রাগ শেষ করা হয়। বক্র স্বর- রাগে কিছু স্বর ক্রম অনুযায়ী  প্রয়োগ না হয়ে যখন আগে পরে করে ব্যবহৃত হয় তখন তা বক্র স্বর। বর্জিত স্বর- রাগে যে স্বরের ব্যবহার নিষিদ্ধ তাই বর্জিত স্বর।যথা-খাম্বাজ রাগে আরোহে 'রে' বর্জিত। স্থায়ী- এটি গানের প্রথম অংশ।এখান থেকে গান শুরু হয় ও গানের প্রতি অংশ গাওয়ার পর স্থায়ীতে ফিরতে হয়।এটি সাধারণত মন্দ্র ও মধ্য সপ্তকে গাওয়া হয়। অন্তরা- গানের দ্বিতীয় অংশ।এটি সাধারণত গাওয়া হয় মধ্য সপ্তকের গ ম প থেকে তার সপ্তকের র্গ র্ম র্প পর্যন্ত। সঞ্চারী- গানের তৃতীয় অংশ।এটিও মন্দ্র ও মধ্য সপ্তকে গাওয়া হয়।এই অংশের সঙ্গে স্থায়ীর কিছু সাদৃশ্য থাকে। আভোগ- গানের চতুর্থ অংশ।মধ্য সপ্তকের প থেকে তার সপ্তক অবধি এর বিস্তার।এই অংশের সঙ্গে অন্তরার অনেক সাদৃশ্য থাকে।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

  পূর্বাঙ্গ রাগ- রাগের বাদী স্বর সপ্তকের পূর্বাঙ্গে অর্থাৎ সা রে গ ম প-র মধ্যে থাকে এবং সেই রাগ দুপুর বারোটা থেকে রাত্রি বারোটার মধ্যে গাওয়া হলে তা পূর্বাঙ্গ রাগ। উত্তরাঙ্গ রাগ- রাগের বাদী স্বর সপ্তকের উত্তরাঙ্গে অর্থাৎ ম প ধ নি সা-র মধ্যে থাকে এবং সেই রাগ রাত বারোটা থেকে দুপুর বারোটার মধ্যে গাওয়া হলে তা উত্তরাঙ্গ রাগ। বাদী স্বর- রাগে যে স্বর বেশি ব্যবহৃত হয় তা বাদী স্বর।এটি রাগের প্রাণস্বরূপ।একে রাজা বলা হয়।যথা-কেদার রাগের বাদী স্বর 'ম'। সমবাদী- রাগে যে স্বর বাদী স্বরের থেকে কম,কিন্তু অন্য স্বরের চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।এটি রাগের মন্ত্রীস্বরূপ।রাজ্যে যেমন রাজার পরেই মন্ত্রীর প্রাধান্য থাকে,ঠিক তেমন বাদী স্বরের পর সমবাদী স্বরের প্রাধান্য থাকে।যথা-কেদার রাগের সমবাদী স্বর 'সা' অনুবাদী- উপরের দুটি স্বর ছাড়া যে স্বরগুলি রাগ প্রকাশে সহায়ক তাই অনুবাদী স্বর।একে প্রজা বা সেবক মনে করা হয়। বিবাদী- এই শব্দের অর্থ শত্রু।রাগে যে স্বর প্রয়োগ হলে রাগভ্রষ্ট হয় তাই বিবাদী স্বর।তবে অনেকসময় রাগের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্যও বিবাদী স্বরের প্রয়োগ হয়।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

সপ্তকের পূর্বাঙ্গ-উত্তরাঙ্গ : একটি সপ্তকে সা রে গ ম পূর্ব ভাগ ও প ধ নি সা (সা-র মাথায় বিন্দু হবে)উত্তর ভাগ।যদি রাগের বাদী স্বর সপ্তকের পূর্ব ভাগে থাকে অর্থাৎ সা রে গ ম-র মধ্যে থাকে তবে তা সপ্তকের পূর্বাঙ্গ।আর যদি বাদী স্বর সপ্তকের উত্তর ভাগে থাকে অর্থাৎ প ধ নি সা-র মধ্যে থাকে তবে তা উত্তরাঙ্গ।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

রাগ-রাগিণী পদ্ধতি : প্রাচীনকালে প্রত্যেক রাগকে একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হত।প্রতি রাগিণীর পুত্ররাগ ও পুত্রবধূরাগ মিলিয়ে ছয়টি রাগকে মান্যতা দেওয়া হয়।মতান্তরে ছয় রাগের পাঁচ-পাঁচ বা ছয়-ছয় রাগিণী ও আট-আট পুত্ররাগ মানা হত।এই নিয়ম চারটি মতে মানা হত- সোমেশ্বর বা শিবমত :এই মতানুযায়ী ছয় রাগের প্রতিটির ছয়-ছয় রাগিণী ও আট পুত্ররাগ।যথা-ভৈরব,শ্রী,বসন্ত,পঞ্চম,মেঘ,নটনারায়ণ। কল্লিনাথ মত :ছয় রাগ,ছত্রিশ রাগিণী,আট পুত্ররাগ। ভরত মত :ছয় রাগ-ভৈরব,মালকোষ,হিন্দোল,শ্রী,দীপক,মেঘ।পাঁচ-পাঁচ রাগিণী,আট পুত্ররাগ ও পুত্রবধূ রাগ। হনুমত মত :ভরত মতানুযায়ী ছয় রাগ।তবে,রাগিণী,পুত্র ও পুত্রবধূ রাগের মধ্যে পার্থক্য ছিল।এই ছয়টি রাগ বিভিন্ন ঋতুতে গাওয়া হত।যেমন-গ্রীষ্মে দীপক,বর্ষায় মেঘ,শরতে ভৈরব,হেমন্তে মালকোষ,শীতে শ্রী,বসন্তে হিন্দোল। এই রাগ-রাগিণী পদ্ধতি 1100-1800 শতাব্দী অবধি বজায় ছিল।1813 খ্রিস্টাব্দে পটনায় মহম্মদ রজা খাঁ সর্বপ্রথম তাঁর" নগমাতে আসফী " গ্রন্থে ঐ পদ্ধতির অশুদ্ধতা প্রমাণ করেন।তিনি বিলাবল ঠাটকে শুদ্ধ ঠাট মেনে নতুন রাগ-রাগিণী পদ্ধতি তৈরী করেন।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

জন্য রাগ- জন্য অর্থে জাত বা যার জন্ম হয়েছে।ঠাট থেকে রাগের জন্ম হয়।তাই প্রত্যেক রাগই জন্য রাগ।যেমন-ভৈরব ঠাট থেকে ভৈরব রাগ,পূর্বী ঠাট থেকে পূর্বী রাগ,কাফী ঠাট থেকে বাগেশ্রী ইত্যাদি।   লক্ষণগীত- রাগের নাম,বাদী,সমবাদী,জাতি,সময়,আরোহ-অবরোহ প্রভৃতির উল্লেখ থাকলে তা লক্ষণগীত।এতে রাগের সম্পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়। পকড়- রাগবাচক মুখ্য স্বরগুলিকে পকড় বলে।অল্প কিছু স্বরসমষ্টিকে পকড় বলে,যা দিয়ে রাগ চিনতে পারা যায়।যেমন-ভূপালী রাগের পকড় : সা গা রে,সা ধা,সা রে গা,পা গা,ধা পা গা,রে সা। ছায়ালগ ও সঙ্কীর্ণ রাগ- যে রাগ কোনো শুদ্ধ রাগের সামান্য ছায়া অবলম্বনে গাওয়া হয় তা ছায়ালগ বা সালঙ্ক রাগ।যথা-ছায়ানট রাগ। শুদ্ধ ও ছায়ালগ রাগের মিশ্রণে যে রাগ গাওয়া হয় তা সঙ্কীর্ণ রাগ।যথা-পিলু।দুই বা তার বেশি রাগের মিশ্রণ হল সঙ্কীর্ণ রাগ।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

আশ্রয়রাগ- হিন্দুস্থানী সঙ্গীতের প্রচলিত রাগগুলি কোনো না কোনো ঠাটের অন্তর্গত।প্রত্যেক ঠাটের এমন একটা করে রাগ আছে,যার নামে ঠাটের নামকরণ করা হয়েছে।সেই রাগগুলোই ঠাটগুলির আশ্রয়রাগ।যেমন আশাবরী ঠাট থেকে আশাবরী রাগের উৎপত্তি।তাই আশাবরী রাগ আশাবরী ঠাটের আশ্রয়রাগ।   জনকঠাট- যেসব ঠাট থেকে রাগের উৎপত্তি হয় তা হল জনকঠাট।হিন্দুস্থানী সঙ্গীতে প্রচলিত দশটি ঠাটই জনকঠাট। আরোহ- কিছু স্বরসমষ্টি নীচ থেকে যখন আরোহণক্রমে উপরে ওঠে তখন তাকে আরোহ বলে।যেমন-সা রে গা মা পা ধা নি র্সা। অবরোহ- কিছু স্বরসমষ্টি যখন অবরোহণক্রমে উপর থেকে নীচে নামে তখন তাকে অবরোহণ বলে।যেমন র্সা নি ধা পা মা গা রে সা। রাগের জাতি- রাগের আরোহ-অবরোহে সর্বদা সমান সংখ্যক স্বর ব্যবহত হয়না।পাঁচটি/ছয়টি/সাতটি স্বর ব্যবহৃত হয়।একে রাগের জাতি বলে।তিন জাতির রাগ হয় : সম্পূর্ণ -যে রাগের আরোহ-অবরোহে সাতটি করে স্বর ব্যবহার হয়।যেমন ভৈরবী রাগ।এটি হল সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ জাতি। ষাড়ব/খাড়ব-যে রাগের আরোহ-অবরোহে ছয়টি করে স্বর ব্যবহার হয়।যেমন মারবা।এটি ষাড়ব-ষাড়ব/খাড়ব-খাড়ব জাতি।'প' বাদ এই রাগে। ঔড়ব-এতে পাঁচটি করে স্বর ব্যবহার হয়।যেমন ভূপালী,'ম' ও 'ন

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

অলঙ্কার- অলঙ্কার রাগ-রাগিণীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।কিছু নিয়মিত বর্ণের সমষ্টি হল অলঙ্কার।অলঙ্কারের উদ্দেশ্য হল দ্রুত রাগকে বিস্তারিত করার জ্ঞাণ অর্জন করা।একে পাল্টাও বলা হয়।স্বর এবং গলা সাধনা করার জন্য যে সরগম অভ্যাস করা হয়,তাই অলঙ্কার। ভারতে প্রচলিত দুটি সঙ্গীতপদ্ধতি স্বতন্ত্র হয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে।উত্তর ভারতে ঠাট ও দক্ষিণ ভারতে মেল পদ্ধতি চালু হয়(ঠাটকেই মেল বলা হয়)।ফলে ক্রমে উভয় পদ্ধতির স্বর,তাল,রাগ,গায়ন ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে। রাগ- ঠাট থেকে রাগের উৎপত্তি হয়েছে।স্বর ও বর্ণের মনোমুগ্ধকর রচনা হল রাগ।ধ্বনির বিশেষ রচনাকেও রাগ বলা হয়।রাগের বৈশিষ্ট্য: রাগে পাঁচটির কম স্বর থাকবেনা।পাঁচটি,ছয়টি ও সাতটি স্বর দ্বারা রাগ তৈরি হয়। রাগে 'সা' বর্জিত হয়না। 'মা' ও'পা' একসঙ্গে বর্জিত হয়না। আরোহ-অবরোহ উভয়ই থাকে। একটি বাদী ও একটি সমবাদী স্বর থাকে। রাগ পরিবশনের নির্দিষ্ট সময় থাকে। রাগে ব্যবহৃত স্বরকে বক্র গতিতে প্রয়োগ করা যায়। আরোহ-অবরোহণের স্বরসংখ্যা সমান হয়না সর্বদা।  

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

সঙ্গীত- সঙ্গীত তিনটি কলা অথবা বিষয়ের সমাবেশ,গীত,বাদ্য ও নৃত্য।সঙ্গীত এমন কিছু বিশিষ্ট স্বররচনা যা প্রত্যেক প্রাণীর চিত্তকে প্রফুল্ল করে।এই তিনটি বিষয়ের দ্বারা মনের ভাব প্রকাশ পায়।গীত-সুর,অর্থপূর্ণ শব্দ ও তাল।বাদ্য-সুর,তাল ও যন্ত্রের সহযোগিতা।নৃত্য-তাল,ছন্দ ও মনমোহিতকারী দেহভঙ্গিমা।শ্রীকৃষ্ণ মহর্ষি নারদকে বলেছেন যে তিনি যোগী হৃদয়ে বা বৈকুন্ঠে বাস করেননা।তাঁর ভক্তরা যেখানে গান করেন সেখানেই বিরাজ করেন।সঙ্গীত রত্নাকর গ্রন্থে উল্লিখিত," গীতং,বাদ্যং তথা নৃত্যং ত্রয়ং সঙ্গীতমুচ্যতে "(এর অর্থ প্রথম লাইনে বলেছি)।শ্রেণী-জাতি নির্বিশেষে সঙ্গীত সকলের কাছে সমানভাবে সমাদৃত ও সম্মানিত।গ্রীক দার্শনিক প্লেটো বলেছেন" Music for Soul "অর্থাৎ সঙ্গীত মন অথবা আত্মার ক্ষুধা নিবৃত্তিকারক। ভারতে দুরকম সঙ্গীতপদ্ধতি প্রচলিত-উত্তর ভারতীয় বা হিন্দুস্থানী এবং দক্ষিণ ভারতীয় বা কর্ণাটী।সমগ্র উত্তর(বিন্ধ্য পর্বতের উত্তরে)ও পূর্ব ভারতে হিন্দুস্থানী পদ্ধতি এবং মাদ্রাজ,মহীশূর,অন্ধ্রপ্রদেশে (বিন্ধ্য পর্বতের দক্ষিণে)কর্ণাটী পদ্ধতি প্রচলিত।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

কম্পন- স্বর বারবার অথবা দুলে দুলে কম্পিত হয়ে উচ্চারিত হলে তাকে কম্পন বলে।যেমন- মা মা মা,পা পা পা। আন্দোলন- দুটি বস্তুর মধ্যে সংঘর্ষের ফলে যখন আহত বস্তুটি দুলতে থাকে ও যে তরঙ্গের সৃষ্টি হয় তাই আন্দোলন।ধ্বনির সৃষ্টি হয়েছে আন্দোলন থেকে।আন্দোলন চার প্রকার: যে আন্দোলনের গতিবেগ সমান থাকে তা নিয়মিত আন্দোলন। যে আন্দোলনের গতিবেগ সমান থাকেনা তা হল অনিয়মিত আন্দোলন। যে আন্দোলনের স্থায়িত্ব বেশিক্ষণ তা স্থির আন্দোলন। যার স্থায়িত্ব বেশি নয় তা অস্থির আন্দোলন।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

বর্ণ-  গানের প্রত্যক্ষ ক্রিয়া হল বর্ণ।বর্ণ চার প্রকার: এক স্বর বারবার উচ্চারিত হলে তা স্থায়ী বর্ণ।যেমন সা সা সা। নীচ থেকে উপরের দিকে স্বর প্রয়োগ হলে তা আরোহী বর্ণ।যেমন সরাগমা রগমপা। উচুঁ থেকে নীচের দিকে স্বর প্রয়োগ হলে অবরোহী বর্ণ।নধপমা ধপমগা। উপরের তিনটি বর্ণের সংমিশ্রণকে সঞ্চারী বর্ণ বলে।পমগরে সরগমা গমপধা পনধপা। গানের বাণীকে স্থায়ী,অন্তরা,আরোহী,অবরোহী,সঞ্চারী ও আভোগে ভাগ করা হয়।ধ্রুপদ গানে স্থায়ী,আরোহী,অবরোহী ও সঞ্চারী বর্ণ থাকে।খেয়াল গানে স্থায়ী ও অন্তরা থাকে।রবীন্দ্রসঙ্গীত,নজরুলগীতি,ভজন,আধুনিক গানে স্থায়ী,অন্তরা,সঞ্চারী,আভোগ থাকে।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

 ঠাটের কতকগুলি বৈশিষ্ট্য: ঠাটে সাতটি স্বর অবশ্য থাকবে অর্থাৎ সা রে গ ম প ধ নি। আরোহ-অবরোহ উভয়ই নাও থাকতে পারে। কোনো ঠাটকে চেনার জন্য,ঐ ঠাট থেকে উদ্ভূত রাগকে ঠাটের নামেই চিহ্নিত করা হয়।সেক্ষেত্রে,ঐ রাগে সাতটি স্বর নাও থাকতে পারে। ঠাটে কোনো রঞ্জকতার প্রয়োজন নেই। কোনো রাগে সা বর্জিত হয় না।  বাদী স্বর পূর্বাঙ্গে থাকলে, সমবাদী উত্তরাঙ্গে হবে এবং উল্টোটাও হয়।বাদী স্বরের স্থান পরিবর্তন করে সময় নির্ণয় হয়।  সা,ম,প-এই স্বরগুলি উভয় অঙ্গেই থাকে। বিবাদী স্বর অবরোহে শুধু প্রয়োগ হয়।  শুদ্ধ ম যুক্ত রাগ ভোরে ও তীব্র ম যুক্ত রাগ সন্ধ্যায় গাওয়া হয়।  স্বরের প্রকৃতি অনুযায়ী রাগসমূহকে  তিনভাগে ভাগ করা হয়-কোমল রে ও কোম ল ধ যুক্ত রাগ;শুদ্ধ রে ও শুদ্ধ ধ যুক্ত রাগ;কোমল গ ও কোমল নি যুক্ত রাগ।তৃতীয় প্রকৃতির রাগগুলি দুপুরে বা মাঝরাতে গাওয়া হয়।  প্রথম প্রহরে গীত রাগে আরোহে নি,অবরোহে গ বক্র হয়।  পাশাপাশি দুটি স্বরের অবস্থান কম রাগে হয়।  সকালের রাগে কোমল রে,ধ ও সন্ধ্যার রাগে কোমল গ,নি স্বর বেশি ব্যবহার হয়।  হিন্দুস্তানী রাগে স্বরের প্রাধান্য বেশি। দক্ষিণ ভারতীয় রাগে তালের প্রাধান্য বেশি। 

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

ঠাট- এই শব্দের অর্থ কাঠামো।সপ্তক থেকে ঠাটের উৎপত্তি।কিছু বৈশিষ্ট্যপূর্ণ স্বর যা রাগ তৈরিতে সমর্থ,তাই ঠাট।হিন্দুস্থানী সঙ্গীতে দশটি ঠাটকে অনুসরণ করে রাগ সঙ্গীত তৈরি হয়েছে- বিলাবল ঠাট:সব স্বর শুদ্ধ ব্যবহৃত হয়।সা রে গ ম প ধ নি। মারবা:রে কোমল,ম তীব্র ও বাকী স্বর শুদ্ধ।এক্ষেত্রে 'রে'-র তলায় ড্যাশ চিহ্ন ও 'ম'-র উপরে দাঁড়ি চিহ্ন হবে কোমল ও তীব্র স্বর বোঝাতে। টোড়ী:রে গ ধ কোমল,ম তীব্র ও বাকী শুদ্ধ স্বর। ভৈরবী:রে গ ধ নি কোমল ও বাকী শুদ্ধ স্বর। পূর্বী:রে ধ কোমল,ম তীব্র ও বাকী শুদ্ধ স্বর। ভৈরব:রে ধ কোমল,বাকী শুদ্ধ স্বর। আশাবরী:গ ধ নি কোমল,বাকী শুদ্ধ। কাফী:গ নি কোমল,বাকী শুদ্ধ। কল্যাণ-ম তীব্র,বাকী শুদ্ধ। খাম্বাজ:নি কোমল,বাকী শুদ্ধ। হিন্দুস্থানী সঙ্গীতে অথবা ভাতখন্ডে স্বরলিপি পদ্ধতিতে কোমল স্বরের তলায় ড্যাশ চিহ্ন তীব্র স্বরের মাথায় দাঁড়ি চিহ্ন বসানো হয়।রে গ ধ নি হল কোমল স্বর ও ম তীব্র স্বর।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

সপ্তক -  সঙ্গীতে সপ্তক তিন প্রকারঃ মন্দ্র বা উদারা সপ্তক-এটি উচ্চারণ করতে হৃদয়ে বিশেষ জোর লাগে।এর আওয়াজ মধ্য সপ্তকের চেয়ে দ্বিগুণ নীচে হয়।এই সপ্তক কে বোঝাতে স্বরের নীচে ফুটকি বা বিন্দু চিহ্ন ভাতখন্ডে স্বরলিপিতে ব্যবহৃত হয় এবং হসন্ত আকারমাত্রিক স্বরলিপিতে ব্যবহৃত হয়। মধ্য বা মুদারা সপ্তক-এটির উচ্চারণে কন্ঠে বিশেষ জোর লাগে।এর আওয়াজ মন্দ্র সপ্তকের চেয়ে দ্বিগুণ উচ্চে হয়।এর কোনো সাংকেতিক চিহ্ন নেই। তার বা উচ্চ সপ্তক-এর উচ্চারণে তালুতে বিশেষ জোর লাগে।এর আওয়াজ মধ্য সপ্তকের চেয়ে দ্বিগুণ উচ্চে হয়।এই সপ্তক কে বোঝাতে ভাতখন্ডে স্বরলিপিতে স্বরের মাথায় বিন্দু এবং আকারমাত্রিক স্বরলিপিতে স্বরের মাথায় রেফ চিহ্ন বসে। এইভাবে সা থেকে নি পর্যন্ত সাতটি শুদ্ধ স্বর ক্রমানুসারে সঙ্গীতে ব্যবহৃত হয় বলে,একে সপ্তক বলে।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

  স্বর- শ্রুতিমধুর ধ্বনি ই সঙ্গীতে স্বর নামে পরিচিত।স্বর সঙ্গীতের অপরিহার্য বিষয় ও প্রাণস্বরূপ।সঙ্গীতের রাগ ও অলঙ্কার প্রকাশ করার উপযোগী শব্দ হল স্বর। স্বর দুপ্রকার-শুদ্ধ বা প্রাকৃত ও বিকৃত স্বর। শুদ্ধ স্বর দুপ্রকার-চল ও অচল স্বর।চল স্বর-সা ও প ছাড়া বাকীগুলি অর্থাৎ রে গ ম ধ নি।এই স্বরগুলি বিকৃত হয়।অচল স্বর হল সা ও প।এরা বিকৃত হয়না। বিকৃত স্বর ও দুপ্রকার-কোমল ও তীব্র।কোমল স্বর-ঋ(রে),জ্ঞ(গ),দ(ধ),ণ(নি)।তীব্র বা কড়ি হল ক্ষ (ম)। সাতটি শুদ্ধ ও পাঁচটি বিকৃত মিলিয়ে মোট বারোটি স্বর সঙ্গীতশাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

শ্রুতি- অসংখ্য নাদের মধ্যে যে নাদগুলি পৃথকভাবে স্পষ্ট শোনা যায়,তাই শ্রুতি।মোট বাইশটি শ্রুতি সঙ্গীতশাস্ত্রে প্রচলিত-তীব্রা,কুমুদ্বতী,মন্দা,ছন্দোবতী-এই চারটি শ্রুতির উপর 'সা'(ষড়জ)স্বরটি প্রতিষ্ঠিত;দয়াবতী,রঞ্জনী,রক্তিকা-এগুলির উপর 'রে'(ঋষভ)প্রতিষ্ঠিত;রৌদ্রী,ক্রোধী-র উপর 'গা'(গান্ধার)প্রতিষ্ঠিত;বজ্রিকা,প্রসারিণী,প্রীতি,মার্জনী-র উপর 'মা'(মধ্যম);ক্ষিতি,রক্তা,সন্দিপিনী,আলাপিনী-র উপর 'পা'(পঞ্চম);মদন্তী,রোহিনী,রম্যা-র উপর 'ধা'(ধৈবত);উগ্রা,ক্ষোভিনী-র উপর 'নি'(নিষাদ) প্রতিষ্ঠিত।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

ধ্বনি-   সঙ্গীতের সৃষ্টি হয়েছে ধ্বনি থেকে।ধ্বনির সৃষ্টি হয়েছে দুটি জিনিসের সংঘর্ষের ফলে উৎপন্ন তরঙ্গ থে কে।এই তরঙ্গ আমরা শুনতে পাই ধ্বনি হিসাবে। ধ্বনি দুপ্রকার-মধুর ও কর্কশ। নাদ- নাদের অর্থ শব্দ,সূক্ষতম শব্দের কম্পন।নাদ দুপ্রকার-আহত ও অনাহত। আহত নাদ বক্ষ,কন্ঠ,তালু পেরিয়ে শব্দরূপে কন্ঠে প্রকাশ পায়।এটি ব্যক্ত নাদ।আহত নাদ দু প্রকার-বর্ণাত্মক ও ধ্বন্যাত্মক।বর্ণাত্মক নাদ কন্ঠে প্রকাশ পায়।ধ্বন্যাত্মক নাদ দুটি জিনিসের আঘাতের ফলে উৎপন্ন হয়।এক্ষেত্রে বাদ্যযন্ত্রের শব্দ উল্লেখযোগ্য। অনাহত নাদ অব্যক্ত,গুপ্ত।বিনা আঘাতে উৎপন্ন হয়।সিদ্ধব্যক্তিরা এই নাদ সাধনা করে মোক্ষপ্রাপ্ত হন।