পোস্টগুলি

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

আকারমাত্রিক স্বরলিপি বৈশিষ্ট্য : সাতটি শুদ্ধ স্বর-স র গ ম প ধ ন চারটি কোমল স্বর-ঋ জ্ঞ দ ণ। একটি তীব্র বা কড়ি স্বর-ক্ষ। মন্দ্র সপ্তকের নীচে হসন্ত-ন্ ধ্ প্। মধ্য  সপ্তকের চিহ্ন নেই। তার সপ্তকের মাথায় রেফ-র্র র্গ র্ম। প্রতি স্বর একমাত্রা বলে হবে সা রা গা মা। দুটি স্বর নিয়ে একমাত্রা হলে হবে গমা। চারটি স্বর নিয়ে একমাত্রা হলে হবে পধনর্সা। একটি স্বর দুমাত্রা হলে হবে মা -আকার চিহ্ন। একটি স্বর চারমাত্রা-ধা,তিনটি ড্যাশ(-)ও তিনটি আকার চিহ্ন পরপর। তালবিভাগ বোঝাতে '|',তালের সম্ চিহ্ন বোঝাতে সংখ্যার(১,২) মাথায় রেফ,ফাঁক বোঝাতে '০',তাল বোঝাতে ৩ ৪ ৫ ইত্যাদি বসানো হয়। মীড় বোঝাতে নৌকার মত চিহ্ন স্বরের নীচে বসে। স্পর্শ স্বর মূল স্বরের মাথায় কোণে ছোট করে বসে। স্বরের নীচে গানের কথা না থাকলে লেখা হয়-মা -না -ধা।                                                                   আ ০    ০

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

  প্রাচীনকালে শাস্ত্রকাররা ব্রহ্মা,শিব,সরস্বতী ও নারদকে সঙ্গীতের উৎস রূপে কল্পনা করেছেন।ভৈরব রাগকে শিবের রূপ ভেবেছেন।পিলু রাগে রাধাকৃষ্ণ,সরস্বতী রূপ ললিত রাগে।শিবের ডমরু থেকে সঙ্গীত ও কাব্যের উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করা হয়।সঙ্গীতের মাধ্যমে  মানুুষ ভগবানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছে।সঙ্গীতে সুরই প্রধান।কথার অর্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ না হলেও হয়। ভারতীয় সঙ্গীত আরব,পারস্য,মিশর,গ্রীস দেশে ছড়িয়ে পড়ে।তা ছিল বেদকে অনুসরণ করে তৈরি সঙ্গীত।পরে মুসলিম সংস্কৃতির প্রভাব পড়ে।আমীর খসরু ধ্রুপদের সঙ্গে পার্সী গজল মিশিয়ে খেয়াল রচনা করেন।ভারতীয় সঙ্গীতের কল্যাণ রাগের সঙ্গে পার্সী রাগ মিশ্রিত করে ইমন রাগ রচনা করেন। মিঞা গুলাম নবী ও তাঁর স্ত্রী শোরী অনেক টপ্পা গান তৈরি করেন।সনদপিয়া ও কদরপিয়া ছিলেন ঠুংরি গানের স্রষ্টা।ভারতীয় শিল্পের উদ্দেশ্য হল সমাজের কল্যাণ সাধন।বিভিন্ন ধরনের গানের মাধ্যমে ভগবানের বিভিন্ন রূপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।তাঁর বিভিন্ন রূপের বন্দনা করা হয়েছে।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

ভারতে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত রাগপ্রধান।প্রত্যেক রাগের পৃথক স্বরূপ আছে।তাদের পত্নীরাগ আছে,যারা রাগিণী নামে পরিচিত।পুত্র-পুত্রবধূ,কন্যা,জামাতা রাগও আছে বলে ভাবা হয়েছে।পন্ডিত গণ রাগের ৯টি ভাবের উল্লেখ করেছেন-রতি,হাস,শোক,ক্রোধ,উৎসাহ,ভয়,ঘৃণা,বিস্ময়,নির্বেদ বা বৈরাগ্য।৯টি রসের নামকরণ করা হয়েছে ঐ ভাবগুলির উপর ভিত্তি করে-আদি বা শৃঙ্গার,হাস্য, করুণ,রৌদ্র,বীর,ভয়ানক,বীভৎস,অদ্ভূত,শান্ত।এছাড়া আরও কিছু ভাব যা সঞ্চারী ভাব নামে পরিচিত- অসূয়া , অপস্মার ,আলস্য,আবেশ,উদাসীনতা,উন্মাদ,ঔৎসুক্য,গর্ব,গ্লানি,চপলতা,চিন্তা,জড়তা,ত্রাস,নিদ্রা,দীনতা,বিষাদ,ব্যাধি,লজ্জা,মতি,মোহ,শঙ্কা,স্মৃতি।এগুলি মূল ভাবের সঙ্গে মিশে প্রকাশিত হয়। এখন প্রশ্ন হল যে একটি রাগের দ্বারা কি সব রস প্রকাশিত হয়?বিভিন্ন গায়কের দ্বারা বিভিন্ন সময় পরিবেশিত হলেও কি শ্রোতার মনে এক প্রভাব ফেলে? স্পষ্ট কোথাও বলা নেই যে রাগ অনুযায়ী সময় আলাদা আলাদা হওয়া উচিৎ।মনোবিজ্ঞান ভিত্তিক হওয়া উচিৎ।পন্ডিত গায়করা সময় অনুসরণ না করেও রাগ ভালোভাবেই পরিবেশন করতে পারেন।তবে,এটা বেশ ভালো অনুভব করা যায় যে মল্লার রাগ বর্ষা ঋতুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শৃঙ্গার রস প্রধান রাগ-ছায়ানট,বা

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

গমক- মাধুর্য রেখে গাম্ভীর্যের সঙ্গে কোনো স্বরকে বিশেষভাবে আন্দো লিত  করার নাম গমক।প্রাচীনকালে বাইশ প্রকার গমকের প্রচলন ছিল।কর্ণাটক সঙ্গীত পদ্ধতিতে এগুলির কিছু প্রচলিত আছে।তবে হিন্দুস্তান পদ্ধতিতে পরিবর্তন হয়েছে।এই পদ্ধতিতে গমক প্রকাশ করা হয় বুকে ধাক্কা দেবার মত(গায়নশৈলীতে)। গমককে  এক্ষেত্রে মুরকি ,খটকা, জমজমা  নামে অভিহিত করা হয়। টপ্পায়  ও সেতারে জমজমা  প্রয়োগ হয়। কম্পিত গমক-কণ্ঠে ও বাদ্যযন্ত্রে এই গমকের প্রয়োগ হয়।বাদ্যযন্ত্রে এক আঘাতে দুটি স্বর প্রকাশ করে এই গমকের প্রয়োগ হয়। আন্দোলিত গমক-কোনো স্বরকে তার আগের বা পরের স্বরের সঙ্গে স্পর্শ করে আন্দোলিত করলে এই গমক তৈরি হয়। আহত গমক-মূল স্বরকে প্রকাশ করার সময় ঐ স্বরের আগের বা পরের স্বরের সাহায্যে আঘাত করে মূল স্বর বাজালে এই গমক হয়। উল্লাসিত গমক-প্রতি স্বর অন্যকে স্পর্শ করে ওঠে বা নীচে নামে। তিরিপ গমক-দ্রুত লয়ে এক চতুর্থাংশ স্বরের প্রয়োগ হয়। ত্রিভিন্ন গমক-এক বা একাধিক স্বর খুব দ্রুত বেগে  তিনটি সপ্তকে প্রয়োগ হয়। প্লাবিত গমক-মীড়কে ঐ গমক নামে আগে অভিহিত করা হত।অর্থাৎ এক স্বর থেকে আর একটিতে গড়িয়ে যাওয়া। বোলিং গমক-এতে স্বরকে বক্রভাবে ব্যবহার করা

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

খান্ডারবাণী-কথিত আছে মুঘল সম্রাট আকবরের দরবারে বীণকার নওবদ খাঁ এই বাণীর প্রচলন করেন।প্রধানতঃ বীণকার ও ধ্রুপদীয়াগণ এর পরিবেশন করতেন।নওবদ খাঁ ছিলেন তানসেনের জামাতা।তাঁর আগে নাম ছিল সমোখন সিংহ।তাঁর গ্রামের নাম ছিল খাণ্ডার।তাই তাঁর গায়নরীতির নাম হয় খান্ডারবাণী।আল্লাদিয়া খাঁ,সদারঙ্গ,ছোট রামদাস ছিলেন এই রীতির গায়ক। ডাগুরবাণী-কথিত আছে দিল্লির কাছের ডাগুর গ্রামের অধিবাসী হরিদাস এর প্রবর্তক।তিনি তানসেনের সমসাময়িক ছিলেন।এই বাণীর বৈশিষ্ট্য হল সরলতা।এর গায়করা হলেন জালালুদ্দিন খাঁ,আলাবন্দে খাঁ। নওহরবাণী-সুজন দাস বা সুজান খাঁ(পরবর্তীতে) এর প্রবর্তক।মতান্তরে নওহর গ্রামের গুণী শ্রীচন্দ এর প্রবর্তক।দ্রুত লয়ের এই গায়নরীতিতে নাহার অর্থাৎ সিংহের গতি অনুসৃত হয় বলে এমন নামকরণ।মতান্তরে নবরসের সংমিশ্রণ ঘটে বলে এমন নাম।এর গায়করা হলেন কেরামত আলী খাঁ,কল্লন খাঁ,ওস্তাদ বিলায়েৎ হুসেন খাঁ।  গওহরবাণী-তানসেন এর প্রবর্তক।কারো মতে নায়ক কুম্ভন দাসের বংশধর এর প্রবর্তক।উর্দূ ভাষায় রচিত "মাদনূল মওসিকি" গ্রন্থের লেখক হাকিম মোহাম্মদ-এর মতে তানসেন প্রথম জীবনে গৌড়ীয় ব্রাহ্মণ হওয়ার জন্য "গৌড়ী" শব্দ থেকে গওহর 

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

ভারতীয় সঙ্গীতের উত্তরমধ্যকালে ধ্রুপদ গায়কগণ প্রধানতঃ চারটি পদ্ধতিতে ধ্রুপদ পরিবেশন করতেন,একে বাণী বলে।এগুলি ডাগুরবাণী,খান্ডারবাণী,গওহর বা গোবরহার বাণী নওহর বাণী নামে পরিচিত।প্রাচীনকালে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাঁচটি গায়নশৈলীর উল্লেখ পাওয়া যায়  শুদ্ধা-সরল,অনাড়ম্বর,সুললিত স্বরের গীত।ডাগুরবাণী পদ্ধতির সঙ্গে এর মিল আছে।এই রীতিতে গমক,কণ,মীড় প্রয়োগ হতনা। ভিন্না-সূক্ষ্ম,গমকযুক্ত,বক্র গীত।এর সঙ্গে গওহর বাণীর মিল আছে। গৌড়ী-গম্ভীর প্রকৃতির গীত।এর সঙ্গে খান্ডারবাণীর মিল আছে। সাধারণী-এই রীতিতে মন্দ্র সপ্তকে কম্পিত  ও দ্রুত সুরবিন্যাস করে ই বা উ কার যোগে গাওয়া হয়। বেসরা-এতে দ্রুত লয়ে আরোহ-অবরোহ করা হয়।এর সঙ্গে নওহর বাণীর মিল আছে।স্বরের বক্রগতি এতে দেখা যায়।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

কৃষ্ণানন্দ ব্যাস ধ্রুপদ,খেয়ালের গ্রন্থ সংকলন করেন, "সঙ্গীতের কল্লদ্রুম" ।এছাড়া রবীন্দ্রসঙ্গীত,নজরুলগীতি,দ্বিজেন্দ্রগীতি,অতুলপ্রসাদী,রজনীকান্ত  সেনের গান উল্লেখযোগ্য।রাগ-রাগিণী বিষয়ক আলোচনা আছে কৃষ্ণধন ব্যানার্জ্জী-র "গীতসূত্রসার" ,স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ রচিত "রাগ ও রূপ" গ্রন্থ।গোপেশ্বর ব্যানার্জ্জী রচিত "সঙ্গীত চন্দ্রিকা" ,পি সাম্বমূর্তি-র "South Indian Music", স্যার সুরেন্দ্রমোহন ঠাকুর রচিত "Universal History of Music"  উল্লেখযোগ্য। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পন্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখন্ডে ও পন্ডিত বিষ্ণুদিগম্বর পালুস্কর বিশেষ উল্লেখযোগ্য।প্রথম জন সঙ্গীত শাস্ত্র বিষয়ে,দ্বিতীয় জন ক্রিয়াত্মক(Practical)বিষয়ে বিশেষ উন্নতি সাধন করেন।পালুস্কর রচিত গ্রন্থ হল সঙ্গীত বালপ্রকাশ,সঙ্গীত বালবোধ। ভাতখন্ডে রচিত গ্রন্থ হল হিন্দুস্তানী সঙ্গীত পদ্ধতি,ক্রমিক পুস্তক মালিকা,ভাতখন্ডে সঙ্গীতশাস্ত্র,অভিনব রাগমঞ্জরী,স্বরমালিকা,লক্ষ্যসঙ্গীত।আধুনিককালের উল্লেখযোগ্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পীরা হলেন ওস্তাদ আব্দুল করিম খাঁ, ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁ,ওস্তাদ আমীর খাঁ,ওস্তাদ বড়ে