Sangeet Byakaran

কাজী নজরুল ইসলাম 

 ১৮৯৯ সালে ২৪ মে বর্ধমানের চুরুলিয়ায় নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ফকির আহমেদ, মাতা জাহেদা খাতুন। পিতার দুটি বিবাহ হয়। মোট সাত পুত্র ও দুই কন্যা ছিল। চার ভাইএর পর নজরুলের জন্ম হয়। তাঁর ডাক নাম ছিল দুখু মিঞা। নয় বছর বয়সে পিতার মৃত্যু হওয়ায় তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয় ।উপার্জনের জন্য তিনি লেটোর দলে যোগ দেন। সেখানে তিনি গান লিখতেন,ঢোল-বাঁশী বাজাতেন। তাঁর সব বিষয়ে শেখার প্রবল ইচ্ছা থাকার জন্য তিনি তারাখ্যাপা ও নজর আলী নামে অভিহিত হতেন। তিনি যে মক্তবে পড়াশোনা করতেন,সেখানে পরবর্তীতে শিক্ষকতা করেছেন।গ্রামের মোল্লা ও ছিলেন। লেটোর দলে থাকাকালীন  "মেঘনাদ বধ " কাব্য লেখেন। তাঁর গান শুনে এক বাঙালী খ্রীশ্চান গার্ড তাঁকে বাবুর্চির কাজ দেন।কিন্তু মনোমালিন্যের কারণে সেখানে ইস্তফা দিয়ে আসানসোলে রুটির দোকানে ৫ টাকা বেতনে কাজ নেন।সেখানকার দারোগা তাঁর গান শুনে ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহের একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেন। ১৯১৫ সালে তিনি রাণীগঞ্জের সিয়ারশোল রাজস্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হন। রাজবাড়ী থেকে ৭ টাকা বৃত্তি পেতেন এবং বিনামূল্যে হস্টেলে থাকা ও পড়াশোনার সুযোগ পান। 

১৭ বছর বয়সে ৪৯ নাম্বার বাংলা পল্টনে যোগ দেন। সেখানে এক পঞ্জাবী মৌলবী সাহেবের কাছে ফরাসী সাহিত্য শিক্ষা করেন। পরবর্তীতে তিনি পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। 'বিদ্রোহী' ও 'কামালপাশা' কবিতা প্রকাশিত হয়। ১৯২০ সালে 'নবযুগ' পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হন।১৯২২ সালে 'ধুমকেতু' নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি ভারতবাসীকে স্বাধীনতার জন্য লিখে উজ্জীবিত করতেন। এজন্য তাঁর এক বছরের কারাদণ্ড হয়। কারাগারে থেকে "কা রার ঐ লৌহ কপাট","এই শিকল পরা ছল" প্রভৃতি গান রচনা করেন। কারাগারের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে ৩৯ দিন অনশন করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেষ্টায় কারাগার কর্তৃপক্ষ সব দাবী মানায় তিনি অনশন ভাঙেন। 

১৯২৪ সালে ২৪ এপ্রিল বিবাহ করেন। স্ত্রীর নাম ছিল প্রমীলা। ৪ বছরের পুত্র বুলবুল বসন্ত রোগে মারা গেলে বিদ্রোহী কবি শোকে মুহ্যমান হয়ে যান।যার ফলস্বরূপ তিনি লেখেন "শূন্য এ বুকে  পাখী মোর আয় ফিরে আয় ফিরে আয় "।গৃহযোগী বরদাচরণের সান্নিধ্যে এসে খানিক শান্ত হন।এ সময় তিনি গজল রচনা করেন ও 'পথের দিশা','কাণ্ডারি হুুঁশিয়ার','হিন্দু মুসলিম যুদ্ধ' কবিতা লেখেন।আকাশবাণী ও গ্রামোফোন কোম্পানির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন।তিনি সব ধরনের গান রচনা করেছেন।  

১৯৪০ সালে প্রমীলা দেবী পক্ষাঘাতে মারা যান।১৯৪২ সালে কবি ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হন ও ৩৫ বছর বাকরুদ্ধ হয়ে বেঁচেছিলেন। ১৯৭৬ সালে ২৯ অগাস্ট ঢাকায় মারা যান। 

মন্তব্য

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Sangeet Byakaran

Sangeet Byakaran

Sangeet shastra/Byakaran