Sangeet Byakaran

আমীর খুসরো

 ভারতে আসা এক তুর্কী সম্প্রদায়ের মানুষ আমীর খুসরো।শেষের শব্দ দুটির অর্থ সম্ভ্রান্ত বংশের।তিনি  ১২৫৩-৫৪ সালে উত্তরপ্রদেশের এটোয়া জেলার পাটিয়ালায় জন্মান।আসল নাম ছিল আবুল হাসান। পিতা আমীর সৈফুদ্দিন ছিলেন খোরসান প্রদেশের লাচিন তুর্কীদের নেতা।মাতা ছিলেন গিয়াসউদ্দিন বলবনের যুদ্ধমন্ত্রী ইমদুল মূল্কের কন্যা। যুদ্ধের জন্য তাঁর পিতা ভারতে আসেন ও ইলতুৎমিসের দিল্লীর দরবারে স্থান পান।শিশু বয়সে পিতার মৃত্যু হওয়ায় মাতামহের কাছে বড় হন।সেখানে আরবী,ফারসী,হিন্দী,তুর্কী,ব্রজভাষায় পারদর্শী হন।বাল্যকালে তাঁর কাব্য প্রতিভা পরিস্ফুট হয়। 

কথিত আছে যে সুলতান জালালউদ্দিন খিলজী তাঁকে "আমীর " উপাধি দেন।সে সময় দিল্লীতে বিভিন্ন স্থানের সঙ্গীতজ্ঞ,গায়ক,রাজনীতিবিদ, জ্যোতিষী,পন্ডিত ব্যক্তির সমাবেশে ঘটে। ফলে খুসরো বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন করে জ্ঞান লাভের সুযোগ পান। এ সময় তিনি সুফী সম্প্রদায়ের সাধু নিজামুদ্দিন আউলিয়ার শিষ্যত্ব নেন। এরপর তিনি খিলজীর সভা সঙ্গীতজ্ঞ,ধর্মগুরু, প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন।

তিনি উর্দু ভাষা সৃষ্টি করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ 'তুঘলকনামা','মহদফতরে মওসিকি আলম','নুসিপীর'।গজল, মসনবী,কাসিদা,রুবাইৎ প্রভৃতি নানা ধরনের কবিতা ও গদ্য লিখেছেন। কাব্য প্রতিভার জন্য খুসরো 'বুলবুল-ই-হিন্দ' উপাধি পান। তিনি খেয়াল, তারানা,কাওয়ালী সৃষ্টি করেন। তিনি ভারতীয় রীতির সঙ্গে পার্সী রীতির সংমিশ্রণ ঘটান। ইমনী,সরপরদা, জীলফ্,সাজগিরী,বাখরজ,ইমন-বসন্ত, ইমন-ভূপালী,ইমন-বিলাবল,ইমন-বেহাগ,ইমন-পুরিয়া,ইমন-কল্যাণ  রাগ তৈরী করেন।তাঁর এই সঙ্কর রাগ তৈরি অনুসরণ করে পরবর্তীতে সাহানা,আড়ানা, মারু,বারোয়া,তুরস্ক-টোড়ী, তুরস্ক-গৌড়ী রাগগুলি তৈরি হয়। 

তিনি তালে 'ফাঁক'-র প্রচলন করেন ও মৃদঙ্গের পরিবর্তন করে তবলার উৎপত্তি ঘটান।সেতার,ঢোলের উৎপত্তিও করেন বলে মনে করা হয়।তিন তারযুক্ত বীণার উদ্ভাবন করেন।  বাদন ও বোলের পরিবর্তন করেন। আড়াচৌতাল, সুরফাঁকতাল, যৎ,ঝুমরা,সওয়ারী,ফরোদস্ত প্রভৃতি তাল সৃষ্টি করেন।

তাঁর তিন পুত্রের মধ্যে ফিরোজ খাঁ সেতার বাদক ছিলেন। ১৩২৪ সালে ১৭সেপ্টেম্বার মারা যান। গুরু নিজামুদ্দিন আউলিয়ার সমাধির পাশে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।    

মন্তব্য

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Sangeet Byakaran

Sangeet Byakaran

Sangeet shastra/Byakaran