Sangeet byakaran

তানসেন 

তানসেনের আসল নাম তন্না মিশ্র বা রামতনু।তিনি গোয়ালিয়রের বেহট স্থানে জন্মান।পিতার নাম ছিল মকরন্দ পাঁড়ে। মহম্মদ গৌস নামের এক ফকিরের আশীর্বাদে তানসেনের জন্ম হয়। তিনি পশু-পাখির স্বর নকল করতে পারতেন।বৃন্দাবনের হরিদাস স্বামী ও তাঁর শিষ্যগণকে বাঘের মতো আওয়াজ করে ভয় দেখিয়েছিলেন। তাতে স্বামীজি মুগ্ধ হন ও তানসেনকে গান শেখাবার জন্য পিতার থেকে চেয়ে নেন।১২ বছর বৃন্দাবনে সঙ্গীত শিক্ষা করেন। পিতার অসুস্থতার খবর শুনে গোয়ালিয়রে যান।পিতার মৃত্যুর পর তিনি পিতার আজ্ঞা অনুযায়ী হরিদাস স্বামীর অনুমতি নিয়ে মহম্মদ গৌসের কাছে থাকা শুরু করেন। 

গোয়ালিয়রের রানী মৃগনয়নীর গান শোনার জন্য তানসেন তাঁর মন্দিরে যেতেন।রানীর হুসেনী নাম্নী এক দাসী তানসেনের গানে মুগ্ধ হন।তখন রানী ফকির গৌসের সঙ্গে পরামর্শ করে উভয়ের বিবাহ দেন।তাঁদের চার পুত্র সুরতসেন,শরৎসেন,তরঙ্গসেন ও বিলাস খাঁ এবং কন্যা সরস্বতী। 

তানসেন রেওয়ারের রাজা রামচন্দ্রের সভাগায়ক নিযুক্ত হন। তাঁর সঙ্গে বাদসা আকবরের ঘনিষ্ঠতা ছিল।আকবর তানসেনের গানে মুগ্ধ হলে,রাজা তানসেনকে আকবরকে উপহার স্বরূপ দেন।আকবর তাঁর সভার নবরত্নের এক রত্নের মর্যাদা দেন।এতে অন্য সভাগায়ক ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রচার করেন যে তানসেন দীপক রাগ গাইতে জানেন না।তাঁরা বাদসাকে চাপাচাপি করেন যাতে তিনি তানসেনকে বলেন যে তিনি যেন ঐ রাগ গান।তানসেন বলেন যে ঐ রাগ গাওয়ার পরিণাম খারাপ হবে। কিন্তু বাদসার আদেশ মেনে গাইতে হল।ফলে প্রচন্ড তাপে শরীর জ্বলতে থাকে। তখন তাঁর কন্যা মেঘ রাগ গেয়ে পিতার জীবন রক্ষা করেন।

কথিত আছে যে সেই সময়ের আর এক গায়ক বৈজু বাওরা ও তানসেনের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। তানসেন ঘোষণা করেন যে যে হারবে সে মৃত্যু বরণ করবে।বৈজু বাওরা জিতে যান,তবে তানসেনকে ক্ষমা করেন।শোনা যায় যে তানসেন মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেন,তাই তাঁর নামের আগে 'মিঞা ' শব্দ ব্যবহার হয়। এর সত্যতা বিচার হয় নি।তাঁর রচিত রাগ-মিঞামল্লার, মিঞা কি টোড়ী, দরবারী কানাড়া, মিঞা কি সারং। ১৫৮৫ সালে তিনি মারা যান। 

মন্তব্য

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Sangeet Byakaran

Sangeet Byakaran

Sangeet shastra/Byakaran