Sangeet shastra/Sangeet Byakaran

খেয়াল-এই শব্দের অর্থ স্বাধীনতা। এটি ফার্সী শব্দ।এই গান খেয়াল গাওয়া হয়।খেয়াল তিন রকম :

বিলম্বিত-বড় খেয়ালকে বিলম্বিত লয়ের খেয়াল বলে।এটি মীড়,গমক,খটকা সহযোগে গাওয়া হয়। সাধারণত একতাল,ঝুমরা,তিলুয়াড়া তালে গাওয়া হয়।এটি শান্ত ও করুণ রসের হয়। স্থায়ী ও অন্তরা থাকে।


ছোট খেয়াল-মধ্য ও দ্রুত লয়ের খেয়াল হল ছোট খেয়াল। সাধারণত ত্রিতাল, দ্রুত একতাল, ঝাঁপতালে গা গাওয়া হয় বিস্তার, তান,বোলতান সহযোগে। স্থায়ী ও অন্তরা থাকে। 


ধ্রুপদ-এটি ভারতের প্রাচীন গান।একে ধ্রুবপদ ও বলা হয় অর্থাৎ সত্য শব্দ।আনুমানিক ৫০০ বছর আগে এর প্রচলন হয়। গোয়ালিয়রের রাজা মানসিংহ তোমরা এর প্রবর্তক। তাঁর নামে ধ্রুপদ গাওয়া হয়। আকবরের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি উৎকর্ষ লাভ করে।


ধামার-এটি চোদ্দ মাত্রার বিষমপদী তাল। হোরী নামক প্রবন্ধ গান প্রধানত এই তালে গাওয়া হয়।তাই একে ধামার বলে।কলাবন্ত গায়করা বসন্ত ঋতুতে হোলির সময় এই গান গাইতেন।রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক বর্ণনা থাকে এতে।এতে মীড়, গমক, দ্বিগুণ, তিনগুণ, চৌগুণ,আড় লয় ব্যবহার হয়। তান ব্যবহার হয় না। ধ্রুপদের পরই ধামার গাওয়া হয়। 


টপ্পা-এটি হিন্দী শব্দ। প্রাচীনকালে পঞ্জাবের উটপালকেরা এই গান গাইতেন। পরে লক্ষ্নৌ-এর শোরী মিঞা  এর সংস্কার করে প্রচার করেন।এটি পাঞ্জাবী শব্দবহুল চঞ্চল প্রকৃতির ও শৃঙ্গার রস প্রধান। কাফী,পিলু,ঝিঝিঁট,খাম্বাজ, বারোয়াঁ রাগে গাওয়া হয়। 


ঠুমরী-ভাবপ্রধান গান।লক্ষ্নৌ-এর সাদিক আলী এর প্রবর্তক বলে মনে করা হয়। এরপর কদরপিয়া,আখতারপিয়া ঠুুংরী রচনা করেন। যৎ,আর্ধা,পাঞ্জাবী তালে এবং পিলু,খাম্বাজ, ভৈরবী, কাফী রাগে গাওয়া হয়। 


কাব্যসঙ্গীত-সুরের চেয়ে কথার প্রাধান্য যেখানে বেশি ও কাব্যগুণ আছে তাই কাব্যসঙ্গীত। বাল্মীকি প্রতিভা, মায়ার খেলা,কালমৃগয়া প্রভৃতি ও পাশ্চাত্যের গাথা কাব্য বা Ballad এর উদাহরণ। 



মন্তব্য

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran