পোস্টগুলি

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

ভারতীয় সঙ্গীতের উত্তরমধ্যকালে ধ্রুপদ গায়কগণ প্রধানতঃ চারটি পদ্ধতিতে ধ্রুপদ পরিবেশন করতেন,একে বাণী বলে।এগুলি ডাগুরবাণী,খান্ডারবাণী,গওহর বা গোবরহার বাণী নওহর বাণী নামে পরিচিত।প্রাচীনকালে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাঁচটি গায়নশৈলীর উল্লেখ পাওয়া যায়  শুদ্ধা-সরল,অনাড়ম্বর,সুললিত স্বরের গীত।ডাগুরবাণী পদ্ধতির সঙ্গে এর মিল আছে।এই রীতিতে গমক,কণ,মীড় প্রয়োগ হতনা। ভিন্না-সূক্ষ্ম,গমকযুক্ত,বক্র গীত।এর সঙ্গে গওহর বাণীর মিল আছে। গৌড়ী-গম্ভীর প্রকৃতির গীত।এর সঙ্গে খান্ডারবাণীর মিল আছে। সাধারণী-এই রীতিতে মন্দ্র সপ্তকে কম্পিত  ও দ্রুত সুরবিন্যাস করে ই বা উ কার যোগে গাওয়া হয়। বেসরা-এতে দ্রুত লয়ে আরোহ-অবরোহ করা হয়।এর সঙ্গে নওহর বাণীর মিল আছে।স্বরের বক্রগতি এতে দেখা যায়।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

কৃষ্ণানন্দ ব্যাস ধ্রুপদ,খেয়ালের গ্রন্থ সংকলন করেন, "সঙ্গীতের কল্লদ্রুম" ।এছাড়া রবীন্দ্রসঙ্গীত,নজরুলগীতি,দ্বিজেন্দ্রগীতি,অতুলপ্রসাদী,রজনীকান্ত  সেনের গান উল্লেখযোগ্য।রাগ-রাগিণী বিষয়ক আলোচনা আছে কৃষ্ণধন ব্যানার্জ্জী-র "গীতসূত্রসার" ,স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ রচিত "রাগ ও রূপ" গ্রন্থ।গোপেশ্বর ব্যানার্জ্জী রচিত "সঙ্গীত চন্দ্রিকা" ,পি সাম্বমূর্তি-র "South Indian Music", স্যার সুরেন্দ্রমোহন ঠাকুর রচিত "Universal History of Music"  উল্লেখযোগ্য। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পন্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখন্ডে ও পন্ডিত বিষ্ণুদিগম্বর পালুস্কর বিশেষ উল্লেখযোগ্য।প্রথম জন সঙ্গীত শাস্ত্র বিষয়ে,দ্বিতীয় জন ক্রিয়াত্মক(Practical)বিষয়ে বিশেষ উন্নতি সাধন করেন।পালুস্কর রচিত গ্রন্থ হল সঙ্গীত বালপ্রকাশ,সঙ্গীত বালবোধ। ভাতখন্ডে রচিত গ্রন্থ হল হিন্দুস্তানী সঙ্গীত পদ্ধতি,ক্রমিক পুস্তক মালিকা,ভাতখন্ডে সঙ্গীতশাস্ত্র,অভিনব রাগমঞ্জরী,স্বরমালিকা,লক্ষ্যসঙ্গীত।আধুনিককালের উল্লেখযোগ্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পীরা হলেন ওস্তাদ আব্দুল করিম খাঁ, ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁ,ওস্তাদ আমীর খাঁ,ওস্তাদ বড়ে

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

আধুনিককাল- খ্রীষ্টীয় অষ্টাদশ শতকের পর থেকে শুরু আধুনিককাল।অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ঊনবিংশ শতকের শেষ অবধি একটা অংশ এবং বিংশ শতকের শুরু থেকে আজ অবধি পরের অংশ।এ সময় ব্রিটিশদের শাসনাধীনে ভারতে সঙ্গীতের প্রসার ব্যহত হয়।সঙ্গীতজ্ঞরা নিজ নিজ পরিবারের মধ্যে সঙ্গীতচর্চা করতেন।তার বাইরে তাঁরা সঙ্গীত শেখাতেননা।ফলতঃ সঙ্গীত শুধু নর্তকী,বাইজিদের মধ্যে সীমিত ছিল বাইরের পরিবেশে।তাই সঙ্গীতচর্চা সে সময় ঘৃণার বিষয়ে পরিণত হয়।এ যুগে জয়পুরের প্রতাপসিংহ দেব "সঙ্গীতসার" নামে গ্রন্থ রচনা করেন ও বিলাবলকে  শুদ্ধ ঠাট বলে গণ্য করেন। এ যুগে বাংলাদেশের হালিশহর নিবাসী সাধক রামপ্রসাদ তাঁর আরাধ্য দেবী কালী ঠাকুরের ভক্তিগীতি রচনা করেন।তৎকালীন কলিকাতায় নগরবাসী,চাকুরিজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে কবিগান,পাঁচালি,যাত্রা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।নিধুবাবুর টপ্পা এ সময় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের বাকুঁড়ার বিষ্ণুপুরের রাজা দ্বিতীয় রঘুনাথ সিংহ(১৭৫২-১৭৮৪)দিল্লি থেকে সেনী  ঘরানার গায়ক বাহাদুর খাঁ কে আমন্ত্রণ জানান।এ থেকে বিষ্ণুপুর ঘরানার উৎপত্তি হয়।এ ঘরানা থেকে প্রসিদ্ধ গায়ক রা হলেন যদু ভট্ট,ক্ষেত্রমোহন গোস্বামী,গদাধর চক্রবর্তী।  

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

১৬১০ সালে দক্ষিণ ভারতের তেলেগু ব্রাহ্মণ পন্ডিত সোমনাথ "রাগবিরোধ" গ্রন্থে উত্তর-দক্ষিণ ভারতীয় সঙ্গীতের সমন্বয় ঘটান।মেল ও ঠাট শব্দের উদ্ভাবন করেন।১৬২৭-১৬৫৮ সালে সম্রাট শাহজাহানের দরবারে ছিলেন যথাক্রমে তানসেনের পুত্র ও পুত্র বিলাস খাঁ ও লাল খাঁ।১৬৫০ সালে  পন্ডিত অহোবল রচিত "সঙ্গীত পারিজাত" গ্রন্থে প্রথম বীণার তারের উপর বারোটি স্বর স্থাপনা হয়।অহোবল বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বীণার তারের দৈর্ঘ্য ও আন্দোলনের সাহায্যে নতুন স্বর স্থাপনা করেন। ১৬৫৮-১৭০৭ সালে সম্রাট ঔরঙ্গজেব সঙ্গীতের প্রতি বিরূপ থাকলেও সঙ্গীত চর্চা বন্ধ হয়নি এ সময়।১৬৬০ সালে দক্ষিণ ভারতের পন্ডিত গোবিন্দ দীক্ষিতের পুত্র পন্ডিত ব্যঙ্কটমখী "চতুর্দণ্ডী প্রকাশিকা" গ্রন্থ রচনা করেন।তাঁর মতে ৭২ টি ঠাট ও একটি ঠাট থেকে ৪৮৪ টি রাগ তৈরি হতে পারে। মহম্মদ শাহরঙ্গীলে ছিলেন একজন সঙ্গীতেপ্রেমীক শাসক।তাঁর দরবারে ছিলেন দুজন প্রসিদ্ধ গায়ক সদারঙ্গ ও অদারঙ্গ।তাঁদের রচিত খেয়াল বহুল প্রচলিত। অষ্টাদশ শতকে দক্ষিণ ভারতের সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করেন ত্যাগরাজ,শ্যামশাস্ত্রী,মুত্তুস্বামী দীক্ষিত।তানসেনের সঙ্গে তুলনীয় ত্যাগরাজ।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

গোয়ালিয়রের রাজা মানসিংহ ১৪৮৬-১৫১৮ খ্রিঃ অবধি রাজত্ব করেন।এ সময় গোয়ালিয়র ঘরানা প্রবর্তিত হয়।তিনি বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞদের সাহায্যে  "মানকুতূহল" নামে গ্রন্থ রচনা করেন।এ সময় ভক্তি আন্দোলনের প্লাবন বয়ে যায়। উত্তর ভারত প্লাবিত হয় কবীর,মীরাবাঈ,শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর গানে।ভজন,কীর্তনের প্রসার বেশি ঘটে।কীর্তনের প্রসার ঘটে বেশি বাংলা,বিহার,আসাম ও উড়িষ্যায়।চৈতন্যদেব,মীরাবাঈ যথাক্রমে কৃষ্ণভক্তি রসাত্মক  কীর্তন ও ভজনের প্রচার করেন। ১৫৫৬-১৬০৫ সালে মুঘল সম্রাট আকবরের সভায় সঙ্গীত সম্রাট তানসেন,নায়ক বক্সী,তানতরঙ্গ গোপাল প্রমুখ ৩৬ জন সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন।তানসেেনের নামানুসারে তাঁর বংশের গায়ক ও শিষ্যরা "সেনী ঘরানা" র নামে পরিচিত হন।তানসেন "মিঞা কি মল্লার" "মিঞা কি সারং" "দরবারী কানাড়া" প্রভৃতি রাগ তৈরি করেন।আকবরের নবরত্ন সভার এক রত্ন ছিলেন তানসেন। ১৫৮৪ সালে তুলসীদাস "রামচরিতমানস মানস" রচনা করেন।এছাড়া ছিলেন কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী,স্বামী হরিদাস গোস্বামী।ঠাকুর নরোত্তম দাস ক্লাসিকাল কীর্তনের প্রবর্তন করেন।একে রস বা লীলা কীর্তন বলে।লীলাকীর্তন অবলম্বনে গরাণহাটি

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

দক্ষিণ ভারতের দেবগিরির(দৌলতাবাদ)রাজসভার কাশ্মীরী ব্রাহ্মণ শার্ঙ্গদেব ১২৩১ খ্রিস্টাব্দ "সঙ্গীত রত্নাকর" গ্রন্থ রচনা করেন।এটি উত্তর ও দক্ষিণ ভারতীয় সঙ্গীতের আকর গ্রন্থ বলে মানা হয়। সুলতানি আমলে আলাউদ্দিন খিলজির সময় (১২৯৬-১৩১৬)প্রসিদ্ধ সঙ্গীতজ্ঞ আমীর খুসরো আবির্ভূত হন।অনুমান করা হয় যে তিনি সেতার,তবলা;সাজগিরি,সরপরদা,জিলক প্রভৃতি রাগ;গানের ধরণ হিসাবে কাওয়ালী,তারানা;আড়াচৌতাল,সুরফাঁকতাল,ঝুমরা ইত্যাদি তাল সৃষ্টি করেন।তিনি "মোকাম" পরিভাষা প্রবর্তন করেন ভারতীয় সঙ্গীতে।ফার্সি সঙ্গীতে ঠাটের পরিবর্তে মোকামে রাগগুলিকে ভাগ করেন। উত্তরমধ্যকালের আর একটি উল্লেখযোগ্য  গ্রন্থ লোচন কৃত "রাজতরঙ্গিনী" ।ইনি রাগকে ১২টি হাটে ভাগ করেন।তাঁর মতে শুদ্ধ ঠাট হল কাফী।পঞ্চদশ শতাব্দীতে জৌনপুরের সুলতান হুসেন শাহ শর্কী খেয়ালের নতুন শৈলী প্রবর্তন করেন ও নতুন রাগ তৈরি করেন।

Sangeet Shastra/Sangeet Byakaran

সঙ্গীত মকরন্দ-নারদ এই গ্রন্থের রচয়িতা।এর রচনাকাল সম্বন্ধে মতানৈক্য আছে।অনেকের মতে এটি নবম শতাব্দীতে রচিত।রাগের স্ত্রী-পুরুষ-ক্লীব লিঙ্গের ভেদাভেদ প্রথম এখানে করা হয়।একে তাই রাগ-রাগিণী পদ্ধতির আকর বলা হয়।আনুমানিক দশম-একাদশ শতকে বাংলায় বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত দোঁহাগুলিকে বলে চর্যাপদ।এগুলি গাওয়া হত বলে এগুলিকে চর্যাগীত বলা হত। গীতগোবিন্দ-দ্বাদশ শতকে বাংলার অধিপতি লক্ষণ সেনের সভা কবি ও সঙ্গীতজ্ঞ    জয়দেব রচনা করেন এই গ্রন্থ।এতে প্রবন্ধগীত সংস্কৃত ভাষায় লিপিবদ্ধ আছে। উত্তরমধ্যকাল- এর সময় ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরু থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী অবধি।একালে উত্তর ভারতীয় ও ফার্সি সঙ্গীতের সংমিশ্রণ ঘটে,যেহেতু,একালে মুসলমান শাসন উত্তর ভারতে প্রতিষ্ঠিত ছিল। এ সময়কে সঙ্গীতের বিকাশকাল বলে।মুসলিম শাসকরা সঙ্গীত কুশলীদের নিজ দরবারে আশ্রয় দিতেন।এ সময় ই ভারতীয় সঙ্গীত উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত হয়।